, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: মহালয়ায় দেবী দুর্গা পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন, গতকাল বিজয়া দশমীর দিন আবার মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে প্রস্থান করেছেন। অগণিত ভক্তদের মনে তাই বিদায়ের বিষাদ। দেবীর বিদায়ের কষ্ট ভুলে থাকতে এবং হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য ভক্তরা মত্ত হয়েছিলেন সিঁদুর খেলায়।
দুর্গাপূজায় সবশেষ রীতিটি হচ্ছে, ‘দেবী বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। তারা এই সিঁদুর মাখিয়ে দুর্গা মাকে বিদায় জানান। দুর্গাকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুর তারা একে অপরের মুখে মাখেন। এই সিঁদুর মাখার রীতি অনেক সময় দশমী ঘরে পালন করা হলেও অনেকে আবার নিজেদের ঘরেই খেলে থাকেন।
মুখ রঙিন করে হাসি মুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। তাই মাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরকে সিঁদুর লাগিয়ে মিষ্টিমুখ করেন, নাচ, গান করেন। যেন সারাটা বছর এমন আনন্দেই কাটে। রীতি অনুযায়ী সধবা নারীর স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নারীরা নিজ কপালে সিঁদুর লাগান এবং সেই সিঁদুরের কিছু অংশ দিয়ে দেবীর চরণ স্পর্শ করে থাকেন। তারপর সবাই মিলে একে অপরকে সিঁদুর মাখেন। ‘দুর্গা আগামী বছর আবার সাথে করে শাঁখা সিঁদুর সঙ্গে নিয়ে আসবেন এবং সেই শাঁখা সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর মঙ্গল হবে’— এই বিশ্বাসে ভক্তরা সিঁদুর নিয়ে দশমী উদযাপন করেন। এই উৎসবের নামই সিঁদুর খেলা। এই সিঁদুর খেলা বিবাহিত নারীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও সকলেই মণ্ডপে ভিড় করেন নেচে গেয়ে এতে অংশ নেন। অবিবাহিতরা গালে আর হাতে মাখেন সিঁদুর।
বুধবার রাজশাহী নগরীর পদ্মা-পারিজাত-মহানন্দা ও চন্দ্রিমা আবাসিক নামোভদ্রা নিয়ে ভদ্রা পার্কের পাশে আবাসিক মন্দির ঘুরে দেখা যায় লাল শাড়ি, সাদা শাড়ি লাল পাড় পোশাকে ছেয়ে আছে। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর জন্য দীর্ঘ লাইন। অনেকেই এসেছেন সিঁদুর খেলতে। বাদ্যের তালে তালে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে বিদায়ের প্রস্তুতি। বিকালে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় দুর্গাপূজা।
পূজা দিতে আসা এক তরুণী বলেন, ‘বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায়না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে তখন ভালো স্বামী এবং সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরবো।’ অন্য একজন জানান, স্বামীর মঙ্গল কামনায় এই রীতি। মা দুর্গা আগামী বছর শাঁখা সিঁদুর সঙ্গে নিয়ে আসবেন এবং সেই শাঁখা সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর মঙ্গল হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা ডা. বি কে দাম, আবাসিক পূজা উদযাপন পরিষদ ভদ্রার সভাপতি কল্পনা সাহা, সহ-সভাপতি দুলাল চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি-প্রফেসর বিজয় বনিক, সেক্রেটারি সুবীর রঞ্জন পোদ্দার, যুগ্ম সম্পাদক সুবাস সুতার, নির্বাহী সদস্য রাজস কমারজন, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক জীবন কুমার ঘোষসহ পূজা উদযাপন পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহী নগরীর সুলতানাবাদ দেবালায় পূজামণ্ডপে দেবীর বিহিত পূজা ও অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। পরে সধবা নারীরা দেবীর পাদপদ্মে সিঁদুর ছুঁইয়ে নিজেদের মধ্যে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি দেবীর বিদায়বেলায় অনেকের চোখেমুখে ছিল বিষাদের ছাপ দেবালায় পূজামণ্ডপে। পূজা, প্রার্থনা ও নানা আচার-অনুষ্ঠানে দেবীর কাছে মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তাঁরা। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, দশমীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় দেবীর বিসর্জন-আচার। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্ব বলে জানা এদিকে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. দেবাশীষ রায়। এসময় জানান রেখা রায়ের দেবী দুর্গার বিদায়ে মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে আসে বিষাদের আবহ। তবে বিদায়ের এই মুহূর্তেও ভক্তদের মনে থাকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—এক বছর পর আবারও মর্ত্যে আসবেন মা দুর্গা, আনন্দ আর আশীর্বাদ নিয়ে।