, , ।
মহিদুল ইসলাম, ঈশ্বরদী: দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রকল্প ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান রূপপুর এসে পৌঁছেছে। বুধবার কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যদিয়ে ঢাকা থেকে সড়ক পথে বেলা ১০টার দিকে প্রকল্প অভ্যন্তরে প্রবেশ করে কন্টেইনার বোঝাই ৪টি গাড়ী। সেনাবাহিনী সহ বিভিন্ন আইন-শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়ীগুলো ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আনা হয়। এজন্য ঈশ্বরদী-ঢাকা মহাসড়কে সকাল ভোর ৫টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত সব ধরণের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রন করা হয়।
সুত্র জানায়, মঙ্গলবার রাশিয়া থেকে বিশেষ বিমান যোগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যান্তরে এসে পৌঁছায়। এরপর খুব সকালে সড়ক পথে রূপপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ইউরেনিয়াম বাহী গাড়ী বহরটি বেলা ১০টার সময় প্রকল্পের অভ্যন্তরে এসে পৌঁছায়। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ইউরেনিয়ামের গাড়িবহর প্রবেশ করলে বাংলাদেশি ও রাশিয়ান কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা দু’দেশের জাতীয় পতাকা ও বেলুন উড়িয়ে স্বাগত জানান।
এই জ্বালানি বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রকল্প সাইটে আনার সময় সড়কপথে ভিভিআইপি সমমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়। ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকায় পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে বাস চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ কবীর হোসেন।
প্রকল্প সুত্র জানায়, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করর্পোরেশন রোসাটমের জ্বালানি প্রস্তুতকারী কোম্পানি টেভেলের একটি প্রতিষ্ঠান নভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্লান্ট (এনসিসিপি) রূপপুরের এই জ্বালানি উৎপাদন করেছে। এই জ্বালানী পরিবহনের সময় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে পালন করতে দেখা যায়।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানী হিসেবে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান নিয়ে আসা হয়। ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ও দাশুড়িয়া সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
সুত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জ্বালানী হিসেবে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান এসে রূপপুরে পৌছে। এরপর ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় চালান, ১৩ অক্টোবর তৃতীয় চালান, ২০ অক্টোবর ৪র্থ চালান, ২৭ অক্টোবর ৫ম চালান, ৩ নভেম্বর ৬ষ্ঠ চালান এবং ১০ নভেম্বর প্রথম ইউনিটের সর্বশেষ সপ্তম চালান রূপপুর প্রকল্পে এসে পৌছে। এরপর চলতি মাসের ৩ নভেম্বর রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম জ্বালানী এসে রূপপুরে পৌছায়।
উল্লেখ্য, দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বড় প্রকল্প ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। রাশিয়া থেকে ঋণ সহায়তা পেয়েছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। আগামী বছর পুরোদমে প্রকল্পটি চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।