সর্বশেষ সংবাদ :

মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় মানববন্ধন বিক্ষোভ, মাদ্রাসা ঘেরাও

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা পরিচালকের স্বামী জায়ের আলীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মাদ্রাসা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার বিকেলে তিলকপুর বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে খাতুনে জান্নাত মহিলা কওমি মাদ্রাসার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিশুশিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীর মা বলেন, ঘটনার পর আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং অসুস্থ হয়ে যায়। তাই সঙ্গে সঙ্গে মামলা করতে পারিনি। পরে কিছুটা সুস্থ হলে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আরেক অভিভাবক রায়হান আলী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েও একসময় ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
তিনি দাবি করেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গেও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে মেয়েকে অন্য এক ছেলের সঙ্গে জড়িয়ে গোপনে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তা ধামাচাপা দিতে আর্থিক সমঝোতার চেষ্টা করেছিল বলেও তাঁর দাবি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এর আগে মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিলকপুর এলাকার খাতুনে জান্নাত মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক আফরোজা বেগমের স্বামী জায়ের আলীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন জায়ের আলী। এতে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ জুন মাদ্রাসার পরিচালক আফরোজা বেগম মাথায় তেল দেওয়ার কথা বলে ওই শিক্ষার্থীকে তাঁর কক্ষে ডাকেন। একপর্যায়ে তিনি বাইরে গেলে কক্ষে থাকা জায়ের আলী শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত জায়ের আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার পরিচালক আফরোজা বেগম বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।


প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬ | সময়: ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ