সর্বশেষ সংবাদ :

কমলার রঙে রঙিন বরেন্দ্রের বাগান

আসাদুজ্জামান মিঠু, বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি: ছোট ছোট কমলায় ছেয়ে গেছে গাছের ডালপালা। ফলের ভারে ডালগুলো নুয়ে পড়েছে মাটির দিকে। গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত থোকায় থোকায় ঝুলছে চায়না ও দার্জিলিং জাতের কমলা। পাকা কমলার সোনালি-কমলা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি ফলের বাগান। সুস্বাদু এসব কমলা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা। অনেকে বাগান ঘুরে দেখার পাশাপাশি কমলার স্বাদও নিচ্ছেন।
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার জোতগরিব গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলামের বাগানে দেখা মিলেছে এমন দৃশ্যের। তাঁর বাগানে চায়না ও দার্জিলিং জাতের কমলার ফলন স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীদেরও নজর কেড়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু-নিচু ও অপেক্ষাকৃত শক্ত মাটিতে একের পর এক নতুন ফল চাষে সফলতা পাচ্ছেন কৃষকেরা। মাল্টা, আরবের খেজুর, ডাব, বেদানা ও কফিসহ বিভিন্ন জাতের ফল চাষে এরই মধ্যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে চায়না ও দার্জিলিং জাতের কমলা।
জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের বাড়ি আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হলেও বর্তমানে তিনি তানোরের জোতগরিব গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে পাঁচ বছর আগে তিনি মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫-এ ব্যক্তি শ্রেণিতে (শ্রেণি-গ) প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কারও গ্রহণ করেন।
শফিকুল ইসলাম বাড়ির পাশে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১০০ শতক জমিতে চাষ করেছেন চায়না ও দার্জিলিং জাতের কমলা। পাঁচ বছর আগে বাগানে ২০০টি চায়না ও ৫০টি দার্জিলিং জাতের কমলার চারা রোপণ করেন তিনি। গত দুই বছর ধরে গাছগুলোতে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর প্রথমবার প্রায় ৮০ মণ কমলা উৎপাদন হয়। চলতি বছর গাছে ফলের পরিমাণ দেখে উৎপাদন ১০০ মণ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি। ফলনের সাফল্যে আগামীতে কমলার বাগানের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের শক্ত মাটিতে এত সুস্বাদু কমলা চাষ করা সম্ভব, তা কখনো ভাবিনি। বাগানে কমলার ফলন দেখে স্থানীয় অনেক কৃষকও এ ফল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগান দেখতে আসেন। তাঁরা কমলা দেখে আনন্দ পান, পাশাপাশি স্বাদও নিয়ে যান।’
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, ‘চায়না জাতের ছোট কমলার চাষ বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে। এর মাধ্যমে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ধান চাষে পানির খরচ বেশি হলেও লাভ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে কমলা চাষে এক বিঘা জমি থেকে বছরে প্রায় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, শফিকুল ইসলামের কমলা চাষের সফলতা অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করবে। কমলা একটি লাভজনক ফলের চাষ। বরেন্দ্র অঞ্চলে এর চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের ফলের চাহিদা মেটাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রকাশিত: November 8, 2026 | সময়: 6:30 am | সুমন শেখ