, , ।
স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহীতে অটোরিকশায় স্বামীর সঙ্গে যাওয়ার পথে এক নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও ভুক্তভোগী দম্পতির শনাক্তের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট ও দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রাজশাহীর কর্ণহার থানার ঘোষপুকুর গ্রামের মো. আবদুল আলীমের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আকাশ (২৩) এবং একই থানার সুন্দলপুর গ্রামের মো. সালতাব আলীর ছেলে মো. হাসিবুর রহমান (২০)।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ইসরাত জাহান (৩৫) স্বামীর সঙ্গে অটোরিকশায় করে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে নগরের এয়ারপোর্ট থানার তকিপুর এলাকায় সিভিল এভিয়েশন স্কুলের পশ্চিম পাশে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁর হাতে থাকা ব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। ব্যাগে এক জোড়া স্বর্ণের বালা, দুটি স্বর্ণের চেইন, একটি আংটি, একটি মুঠোফোন ও নগদ ৬৫ হাজার টাকা ছিল। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজ পর্যালোচনা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৫ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে কর্ণহার থানা পুলিশের সহায়তায় কর্ণহার থানার দর্শনপাড়া গ্রামের তিন রাস্তার মোড় থেকে ভুক্তভোগী দম্পতির শনাক্তের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের সময় আরিফুল ইসলাম ওরফে আকাশ কালো রঙের ১৫০ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তাঁর পরনে ছিল কালো ফুলহাতা শার্ট। আর হাসিবুর রহমান নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট ও কালো হেলমেট পরে মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিলেন।
আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের ওপর হালকা লাল রঙের ১৫০ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল ও একটি কালো হেলমেট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের সময় যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে তাঁদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন ও নগদ টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।