, , ।
মহিদুল ইসলাম, ঈশ্বরদী: পাবনার ঈশ্বরদীতে খোলা আকাশের নিচে তামাকবর্জ্যের বিশাল স্তূপ। চারদিকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, নষ্ট হচ্ছে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা আর অস্বস্তিতে শত শত শিক্ষার্থীরাও। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ-এমন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।
ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়সংলগ্ন নওদাপাড়া গ্রামে এ চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ফিরোজ হোসেনের ভাড়া নেওয়া একটি ধানচাতাল এলাকায় বিপুল পরিমাণ তামাকবর্জ্য উন্মুক্ত স্তূপ করে রাখায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ধানচাতাল এলাকায় উন্মুক্ত তামাকবর্জ্যের বড় বড় স্তূপ পড়ে আছে। চলতি বর্ষা মৌসুম আর দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। বাতাসে সেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বসতবাড়ি ও এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে এসব তামাকবর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয়েছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মাছি-পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক পরিবারকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ও অবস্থানের সময় শিক্ষার্থীদের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী মাথাঘোরা ও বমি বমি ভাবসহ শারীরিক অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন।
দাশুড়িয়া মোকাররম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যাললের শিক্ষক গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের বলেন, তামাকবর্জ্য সাধারণ আবর্জনার মতো উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমে থাকলেও সেটি অপসারণে কোন উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন পরিবেশ দূষণ দিনের পর দিন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই।
দাশুড়িয়া প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক গোপাল অধিকারী বলেন, তামাকের অসহনীয় গন্ধে স্কুল পরিচালনা করাই দায় হয়ে পড়েছে। তামাকের তীব্র গন্ধে শিশুরা প্রায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। তিনি অবিলম্বে ওই তামাক অপসারণের দাবি জানান।
নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তামাকবর্জ্যের স্তূপ অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্জ কীভাবে সেখানে জমা হলো, এর পরিমাণ কত এবং পরিবেশের ওপর এর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এ ধরনের বর্জ উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। এজন্য নিয়মিত নজরদারি এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে দাশুড়িয়ার নওদাপাড়ার মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন তামাকবর্জ্যের এই ‘পাহাড়’ কবে সরবে, আর কবে ফিরবে দুর্গন্ধমুক্ত স্বাভাবিক পরিবেশ?
এসব বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।