কচুয়া-বাজেধনেশ্বর রাস্তার দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ

ওমর ফারুক, আত্রাই: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কচুয়া-বাজেধনেশ্বর রাস্তার বেহাল দশা হয়ে রয়েছে প্রায় ৪ মাস যাবৎ। যেন দেখার কেউ নেই। উন্নয়নের নামে জনভোগান্তির এক চরম নিদর্শন হয়ে রয়েছে এ রাস্তা। রাস্তাটি সংস্কার তথা পাকা করণের জন্য প্রায় ৪ মাস পূর্বে খনন করা হলেও এখন পর্যন্ত আর কোন কাজ শুরু না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি বর্তমানে হাঁটু সমান পানি আর জলমগ্ন ডোবায় পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, আত্রাই উপজেলার কচুয়া, পাইকড়া, বড়াইকুড়ি, বাজেধনেশ্বর গ্রামসহ ওই এলাকার ৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের উপজেলা সদরসহ হাট-বাজারে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। এ রাস্তা যুগ যুগ ধরে পাকা না হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভাগ্য পোহাতে হচ্ছিল। সম্প্রতি এ দুর্ভাগ্য লাঘবের জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটারের ওই রাস্তাটি পাকা করণের নিমিত্ত স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর হতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।
২০২৫-২৬ অর্থ বছর আহ্বানকৃত দরপত্র অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে ওই ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করা হলে তিনি প্রায় ৪ মাস আগে পুরো রাস্তা ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর করে খনন করেন। এদিকে রাস্তা খনন করার পর থেকে অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার রাস্তার কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে রাখেন। এদিকে রাস্তাটি খনন করার ফলে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পানি ও কাদায় একাকার হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে এ রাস্তা দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার হাজার কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও নারী পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কোন রোগীকে জরুরিভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নেওয়ার মত ন্যূনতম পরিবেশও নেই।
কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা বান্দাইখাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, চার মাস আগে রাস্তাটি পাকা করণের জন্য খনন করে এভাবে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি এখন খালে পরিণত হয়ে যায়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দায়িত্বহীনতা আর উদাসীনতার মাশুল কেন সাধারণ জনগণকে দিতে হবে। আমরা অনতিবিলম্বে এই নরকযন্ত্রণা থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই।
ভুক্তভোগি রাসেল বলেন, রাস্তাটি খুঁড়ে রাখার পর থেকে আমাদের কষ্টের শেষ নেই। বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, কোনো জরুরি রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।
কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌখিন প্রামানিক বলেন, রাস্তা খুঁড়ে রাখার পর থেকে আমাদের স্কুল-কলেজগামী ছেলেমেয়েদের যাতায়াত প্রায় বন্ধ। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা ডোবা হয়ে যায়। হেঁটে যাওয়ারও পরিস্থিতি থাকে না। অবিলম্বে এই রাস্তার কাজ পুনরায় শুরু করা হোক।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) নিতিশ কুমার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ তিনি কাজ শুরু না করায় এ দরপত্র বাতিল করে আবারও দরপত্র আহ্বানের মধ্য দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিযুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


প্রকাশিত: July 10, 2026 | সময়: 4:08 am | সুমন শেখ