সর্বশেষ সংবাদ :

খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের পরিচালক মন্ডলীর দূর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী শহর খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, রাজশাহী এর পরিচালক মন্ডলী কর্তৃক সমিতির অব্যবস্থাপনা, অর্থ তছরুপ, সমিতির আর্থিক তথ্য নিয়ে প্রতারনা এবং জাল সনদের মাধ্যমে চাকুরী প্রদান, নাইটগার্ড নিয়োগ না করেও নাইট গার্ড-এর টাকা উত্তোলনসহ নানা অভিযোগে সমিতির ভুক্তভোগী সদস্যরা মানববন্ধন করেছেন।
বুধবার বেলা ১১ টায় নগরীর আইডি বাগান পাড়ায় অফিসটির সামনের রাস্তায় প্রায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনটি চলে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,১৯৭৯ সাল থেকে খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন শুন্য মূলধন নিয়ে হ্াঁটি হাঁটি পায়ে এসে একটা পর্যায়ে এসে দাঁড়ীয়েছ।এখন এ সমিতির আমানত প্রায় ১৬ কোটি টাকার মত। তীল তীর করে জমান সদস্যদের এই টাকার প্রতি নজর পড়েছে বর্তমান পরিষদ মন্ডলীর।
মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন ভাবে সদস্যদের জমানতের অর্থ নয়ছয়, লেনদেনে অনিয়ম, তহবিলের অপব্যবহার, অফিসের অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার অভাব ও জাল সনদের মাধ্যমে ম্যানেজার নিয়োগ, অডিট প্রতিবেদন টেম্পারিং করে সদ্যদের নিকট উপস্থাপন করে সামতির আইনগত মালিক পক্ষ সাধারণ সদস্যদের নিকট উপস্থাপন করে প্রতারনা কোরছে। তাদের এসব কর্মকান্ড সমিতির (প্রতিষ্ঠানের) সুনাম ক্ষুন্ন, সদস্যদের স্বার্থ এবং আইনের শাসনের জন্য হুমকি হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সমিতির শেয়ার সদস্য ১৮১৭ জন এবং সঞ্চয়ী সদস্য ৩৫১৩ জন উভয় সদস্যের মাঝে চরম উদ্বেগ সৃস্টি হয়েছ।
সদস্যরা বলছেন,সমিতির এই অনিয়ম, দূর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত অত্র সমিতির পরিচালক মন্ডলীর সকল সদস্য। এর মধ্যে, মিঃবৈদ্যনাথ হাঁসদা- চেয়ারম্যান, মি: জন সুবোধ টুডু- ভাইস চেয়ারম্যান, মিঃ সুবাস মারান্ডী-সেক্রেটারী, মি: বাপ্পী বাস্কে-ট্রেজারার, মি: পলাশ বিশ্বাস-বোর্ড সদস্য, মিসেস সবিতা টুড়-বোর্ড সদস্য, মিঃ বাবুলাল মারান্ডী- সভাপতি ঋণ মঞ্জুরী কমিটি, মিসেস রেজিনা বিশ্বাস- সম্পাদক, মি: স্বপন হেম্ব্রম- সদস্য, মিসেস কেরিনা মার্ডী সভাপতি-পর্যবেক্ষণ কমিটি মি: জন রাজু মারান্ডী- সম্পাদক ও মিসেস রজনী হাঁসদা সদস্য অন্যতম।আর তাদের অপকর্মে সহায়তা দিচ্ছেন সমিতির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মি: নরেন্দ্রনাথ টুডু, মি: মার্সেল ডি কস্তা ও মিসেস মঞ্জু বিশ্বাস এবং সাবেক ট্রেজারার মি: ফুলজেনসিউস মারান্ডী।
এসবের প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন শেষে,ভুক্তভোগীদের পক্ষথেকে, জুলিয়ান বিশ্বাস (সদস্য নং ৪২৯),আন্দ্রীয়া বিশ্বাস ( সদস্য নং ১০৫৯),শিরিল মুম (সদস্য নং ১০০৯) স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপি সমিতি অফিসে দেয়া হয়।যাহা গ্রহন করেন,বোর্ড সদস্য মিঃ পলাশ বিশ্বাস। এছাড়া অনুরুপ আরো একটি অভিযোগ কপি জেলা প্রশাসক বরাবরে জমা দেন তারা। ভুক্তভোগীদের দাবি,তাদের উত্থাপিত দাবি বা অবিযোগ গুলোর সুষ্ঠ তদন্ত করে,দূর্নীতি গ্রস্ত সকল পরিচালক মন্ডলীর পদত্যাগ,এ্যাডহক কমিটি করে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর,দায়ীদের আইনের আওতায় আনা,ক্ষতি গ্রস্ত জামানত কারিদের লভ্যাংশ সহ অর্থ বুজিয়ে দেয়া,হিসেবে গরমিলের টাকা সমিতির কোষাগারে জমা দেয়া। তবে, সমিতির পরিচালনা বোর্ড সদস্যদের প্রতি আনিত অভিযোগ গুলোর বিষয়ে সভাপতি মিঃ বৈদ্যনাথ হাঁসদা বলেন,বর্তমান সভাপতি মন্ডলীর সকল সদস্য সদস্য প্রতিষ্টানটির ও সকল সদস্যদের প্রতি তারা আন্তরিক। তাদের প্রতি আনিত অভিযোগ গুলো অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। তবে তিনি বলেন, সম্প্রতি মিঃ রাফায়েল টুডু নামের তাদের এক ফিল্ড অফিসার(লোন) কাম কম্পিউটার অপারেটর কিছু সদস্যের জামানত মেমো ঘষামাজা(টেম্পারিং) করে। বিষয়টি জানার পর বোর্ড সূস্যারা তদন্ত করে এর সত্যতা পায় এবং জড়িত ব্যাক্তির নিকট থেকে সমিতির নিয়োমানুযায়ি আত্মসাৎ কৃত অর্থ আদায়ের চেস্টা করা হচ্ছে এবং তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন জামানত কারির অর্থ জমার পাশবই পরিক্ষা নিরিক্ষা সাপেক্ষে সমদয় অর্থ সমিতি পরিশোধ করবে।


প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬ | সময়: ৪:১০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ