সর্বশেষ সংবাদ :

আক্কেলপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি ‎

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: ‎জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গাছপালা, বসতঘরের টিনের চালা এবং বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে হঠাৎ করে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ঝড় প্রায় ঘন্টা ব্যাপী স্থায়ী হয়। এতে জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।
এছাড়া আক্কেলপুর-বগুড়া সড়কের সোনামুখী ল্যাঙ্গরপীর মাজারের বড় একটি বট গাছ ভেঙে সড়কের উপর পড়লে ছয় ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ঝড়ের সঙ্গে তীব্র দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হলে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অনেক জমিতে ধানের শীষ ভেঙে গেছে, ফলে কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে উপজেলার গোপীনাথপুর, রায়কালী ও সোনামুখী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে।
‎আক্কেলপুর উপজেলায় ঝড়ের তাণ্ডবে বহু গাছ উপড়ে পড়ে এবং ডালপালা ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পৌর শহরের ল্যাঙ্গরপীর মাজার এলাকায় শতবর্ষী একটি বট গাছ ভেঙে পড়ায় আক্কেলপুর-বগুড়া সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা গাছটি অপসারণে কাজ করছেন। বিকেল ছয়টা পর্যন্ত ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
‎একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় পুরো আক্কেলপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম আব্দুর রহমান জানান, ঝড়ে সরবরাহ লাইনের অন্তত ১৮টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং সাতটি উপড়ে গেছে ও বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অন্তত দুই দিন সময় লাগতে পারে।
‎এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বসতঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়া এবং গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও স্থানীয় সড়কে গাছ পড়ে সাময়িক যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
‎আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার একাধিক কৃষক জানান, ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এমন শিলাবৃষ্টি তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। ওই এলাকার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ঋণ করে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। সারা মৌসুমের কষ্টে ফলানো ধান এক ঝড়ে শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
‎এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ঝড় বৃষ্টির পর আমরা ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে তথ্য সংগ্রহ করছি। শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভিকনী মাঠের বোরো ধানের। একারণে ধানের শীষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।


প্রকাশিত: May 7, 2026 | সময়: 3:41 am | সুমন শেখ