সর্বশেষ সংবাদ :

সচেতন নাগরিকের কণ্ঠেই এগিয়ে যেতে পারে সমাজ…

নুরুজ্জামান, বাঘা :

অন্যায়, অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে নাগরিকের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা একটি সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তাঁদের মতে, কোনো অনিয়ম বা অন্যায় দেখেও নীরব থাকা সমস্যার সমাধান করে না। বরং শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিবাদের ভাষা হতে হবে যুক্তিনির্ভর ও গণতান্ত্রিক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভাষার অধিকার থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম-প্রতিটি পর্যায়েই মানুষের ঐক্য, সাহস ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে। বর্তমান সময়েও নাগরিক জীবনে নানা ধরনের সমস্যা ও প্রত্যাশা রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, নাগরিক সেবার মান, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক বৈষম্য এবং মানুষের নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

নাগরিকদের প্রত্যাশা, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মৌলিক সেবাগুলো আরও সহজ ও কার্যকর হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সকল পণ্য পাওয়া, নিরাপদে চলাচল , মানসম্মত নাগরিক সেবা এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতি-এসব বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। যা বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন নাগরিকের নিরাপদে কর্মস্থলে যাওয়া ও ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা যেমন প্রয়োজন, তেমনি একজন মা-বাবা সন্তানকে নিরাপদে বাইরে পাঠানোর নিশ্চয়তাও প্রয়োজন। শ্রমজীবী মানুষের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য এবং পরিবারের সঙ্গে সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগও একটি কল্যাণমুখী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

নারী ও শিশুর নিরাপত্তার বিষয়টি ও বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। ধর্ষণ, বলৎকার ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীর সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় যেন বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করেন নাগরিকরা।

সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন, নাগরিক সেবা কতটা সহজে পাচ্ছেন এবং তাঁদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত, এসব বিষয়ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

তবে নাগরিক সচেতনতা ও প্রতিবাদের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব শীলতার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবাদ মানেই ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা নয়। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ- কে অবহিত করা এবং আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হোক নাগরিক – দের একান্ত অধিকার। অনেক সময় নিজের সঙ্গে কোনো সমস্যা না ঘটলে মানুষ অন্যের সমস্যাকে এড়িয়ে যান। আমার তো কোনো সমস্যা হয়নি, এমন মানসিকতা সামাজিকভাবে ইতিবাচক নয়। কারণ আজ অন্য একজন যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন অন্য যে কেউ।

এ কারণে নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে মানুষের সচেতন অংশ গ্রহণ জরুরি। তবে সেই অংশগ্রহণে থাকতে হবে দায়িত্ববোধ, যুক্তি ও সহনশীলতা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলোও নাগরিকের যৌক্তিক প্রশ্ন ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষে সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।

এলাকার সচেতন ও অভিজ্ঞ মহলের মতে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিকের প্রশ্ন করা এবং মত প্রকাশের সুযোগ থাকা যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের দায়িত্বও হলো সেই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়া। নাগরিকের সচেতনতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব করে তুলতে পারে। বর্তমান সময়ে মানুষ শুধু উন্নয়নের পরিসংখ্যান নয়, উন্নয়নের সুফল নিজেদের জীবনে কতটা পাচ্ছে, সেটিও জানতে চায়। নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য এবং মত প্রকাশের সুযোগ, এসব বিষয় মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীল মত প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি ভালো উদ্যোগ ও ইতিবাচক পরিবর্তন কেও উৎসাহিত করতে হবে। কারণ একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, নাগরিক দেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নাগরিকের সচেতন কণ্ঠ, দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই পারে সমাজকে আরও ন্যায়ভিত্তিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে।


প্রকাশিত: September 5, 2026 | সময়: 11:37 am | Daily Sunshine