সর্বশেষ সংবাদ :

কালুহাটি পাদুকা পল্লির অত্যাধুনিক মেশিন কাজে আসেনি উৎপাদনে

মিজানুর রহমান, চারঘাট: চারঘাট উপজেলার কালুহাটির পাদুকাপল্লির উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৩ সালের শেষদিকে স্থাপিত হয় কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার (সিএফসি) যা প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
প্রায় ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৩টি অত্যাধুনিক মেশিন সংবলিত এই সিএফসি চালু থাকলেও স্থানীয় পাদুকাশিল্পের উৎপাদন, মানোন্নয়ন অথবা ব্যয় হ্রাসে কোন দৃশ্যমান ভুমিকা রাখতে পারছে না। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে কালুহাটির পাদুকাশিল্প পল্লিতে শিল্প উন্নয়নের পরিবর্তে হতাশাই আরও বাড়বে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
স্থানীয় পাদুকা উদ্যোক্তাদের অভিযোগ সিএফসিতে থাকা মেশিনগুলো তাদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপুুর্ণ নয়। মেশিন পরিচালনায় দক্ষ জনবল নেই। আবার নিয়মিত প্রশিক্ষণের অভাবে উদ্যোক্তারা এসব মেশিন ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে এসব মেশিনগুলো স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হচ্ছে না বলে তারা জানায়। ফলে ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত এই সকল কাটিং, স্টিচিং, ফিনিশিং মেশিন সহ প্রায় ১৩টি মেশিনের সবগুলোই অব্যবহৃত পড়ে আছে।
পাদুকাপল্লির ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিজয় সু-স্টোরের সোহেল রানা বলেন আমাদের মতো ছোট কারখানাগুলোর জন্য যেসব মেশিন দরকার সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা না থাকায় সিএফসির সুবিধা আমরা পাচ্ছি না। কেউ কেউ বলছেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ আমলে ভুয়া মালিকানা দেখিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কারিগর নয় এমন লোকজনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থায় নেয়া হয়। দক্ষ জনবলের অভাব, নিয়ম ও সময়সূচি স্পষ্ট না হওয়ায় উৎপাদন কাজে এটিকে অর্ন্তভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাদুকাশিল্প উদ্যোক্তা।
স্থানীয় উদ্যোক্তা ওয়াগান ফুটওয়ারের মালিক রকি সরকার জানান, প্রকল্প পরিকল্পনায় মাঠপর্যায়ে বাস্তব চাহিদা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে আধুুনিক মেশিন থাকা সত্বেও তা স্থানীয় পাদুকাশিল্পের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হয়নি। এছাড়া রক্ষাণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতিও প্রকট।
কলেজ শিক্ষক মিঠু রানার মতে, কালুহাটি পাদুকাশিল্প দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে। সিএফসি’র উদ্যোগ সফল করতে হলে শুধু অবকাঠামো নয় প্রয়োজন দক্ষ জনবল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় দরকার। তা না হলে কালুহাটির এই সিএফসি উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা পূরনে ব্যর্থ হয়ে জনস্বার্থে সরকারের এই মহতী উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ বিনিয়োগে পরিনত হবে।
সরেজমিনে গিয়ে পাদুকাশিল্প পল্লিতে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টারের ভিতরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে মেশিনগুলো প্রায় শুরু থেকে। এক সময় ৮০ অধিক কারখানা চালু থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে ৮-১০টি কারখানা। নেই কোন কাজের ব্যস্ততা এ পল্লিতে যেন নেমে পড়েছে সুনশান নিরবতা।
এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপক (ক্লাস্টার উন্নয়ন) নাজমুল ইসলাম বলেন সিএফসির পূর্ন সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের কথা ভেবে একজন টেকনেশিয়ান দেয়া হবে যাতে করে মেশিনগুলোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
ইতোমধ্যে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে এবং চলতি জানুয়ারির শেষ থেকে উদ্যোক্তারা সিএফসি’র সেবা গ্রহন করতে পারবেন বলে জানান তিনি।


প্রকাশিত: January 5, 2026 | সময়: 12:43 am | সুমন শেখ