সর্বশেষ সংবাদ :

পেঁয়াজের দাম বাড়ছেই

সবুজ ইসলাম: রাজশাহীর খুচরা বাজারে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানের পেঁয়াজের দাম বাড়ছেই। পূর্বের তুলনায় প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি বেড়েছে।
রবিবার রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, পবার খড়খড়ি, নওহাটা এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র কয়েক দিন আগেও এই দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অন্যদিকে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দামও বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। দেশে নতুন পেঁয়াজ উঠতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকায় সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দাম আরও কিছুদিন বাড়তি থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে বাজারে অবৈধ মজুতকারীদের কারণেও অসময়ে পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
সাহেববাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবদুল জলিল বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াইনি। পাইকারিতে এখন প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম অনেক বেড়েছে। তাই আমাদেরও কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
খড়খড়ি বাজারের রাজ্জাক আলী নামের এক আড়তদার বলেন,“দেশে কোন কিছুরই নিয়ন্ত্রণ নেই। যে যেমন ভাবে পারছে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অবৈধ মজুতকারী সিন্ডিকেট। এদের ধরে ব্যবস্থা নিলেই পেঁয়াজের দাম কমবে।”
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, একসঙ্গে সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শিরোইল এলাকার গৃহিণী আসমা আক্তার বলেন, “তেল, ডাল, চাল সবকিছুর দাম বাড়তি। এখন পেঁয়াজও ১০০ টাকায় উঠেছে। রান্না করব কীভাবে?”
বেসরকারি চাকুরিজীবি হুমায়ন আহমেদ বলেন,“কয়েকদিন আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু, গত এখন থেকে আবার সব জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হতে চললো। এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তা না হলে আমরা সাধারণ ভোক্তারা এত দাম দিয়ে কিনতে পারবো না।”
সরকারি হিসাবে, দেশে বছরে ৩৫ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা থাকলেও গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। সে হিসেবে দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজেই চাহিদা পূরণ হবার কথা। মৌসুমের শেষ সময় হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে ধারণা করছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ তোলার মৌসুম নভেম্বরের শেষ দিকে শুরু হবে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন,“নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে এখনো প্রায় এক মাসের মত সময় লাগবে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম আবার কমবে। এখন পেঁয়াজের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। তারা প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি করছে।”
দেশে রবি মৌসুমের শুরু হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি। রাজশাহী, পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজের রোপণ শুরু হয়েছে কিছুটা দেরিতে, ফলে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে। এ অবস্থায় সময়মতো আমদানি অনুমোদন না পেলে বাজার আরও অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। বাজারে সরবরাহ ঘাটতি ও আমদানিনির্ভরতার কারণে রাজশাহীতে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সবারই এখন অপেক্ষা নতুন মৌসুমের পেঁয়াজের জন্য।


প্রকাশিত: November 13, 2025 | সময়: 5:16 am | সুমন শেখ