বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের জামালগঞ্জ বাজার থেকে শৈলগাছী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে রানীনগর উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রাসেল সরকারের নেতৃত্বে এলাকাবাসী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক সহ সমাজসেবকরা এই মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জামালগঞ্জ বাজার থেকে শৈলগাছী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘ দিনেও পাকাকরণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা পানি ও কাদায় একাকার হয়ে যায়। এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে নওগাঁ, রাজশাহী, বাগমারা সহ বিভিন্ন গন্তব্যে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি আজও অবহেলিত। অবিলম্বে এটি পাকাকরণের দাবি জানান জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মিরাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম জানায় বর্ষা মৌসুমে হাটু কাঁদা ভেঙ্গে তাদের স্কুলে যেতে হয়। বিকল্প রাস্তা হিসেবে ৩০কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। জরুরী রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্য বরণ করতে হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সময় মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। তাই দ্রুত এই পুরো রাস্তায় আধুনিকতার ছোঁয়া চায় এলাকাবাসী।
উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রাসেল সরকার বলেন, উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা জামালগঞ্জ বাজার থেকে শৈলগাছী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তার ৩কিলোমিটার অংশ এখনো লাল মাটির। শুষ্ক মৌসুমে চলাচলা করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা পানি ও কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। যুগের পর যুগ ধরে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের।
প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই রাস্তা দিয়ে নওগাঁ, রাণীনগর উপজেলা, রাজশাহী, বাগমারা সহ বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। দূরবর্তি বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই মেঠো রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। বর্ষা মৌসুমে মেঠো রাস্তার চরম দুর্ভোগের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা চলাচল করতে পারেন না। মিরাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন জানান এই খারাপ রাস্তার জন্য এই অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের ভালো স্থান থেকে বিয়ের সম্পর্ক আসে না। জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি আজও অবহেলিত। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল পায় না।
এক কথায় একটি খারাপ গ্রামীণ রাস্তার কারণে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন থমকে আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান এই রাস্তার নষ্ট হওয়া পাকা অংশের মেরামতের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে। আর অবশিষ্ট মাটির রাস্তার উন্নয়নের কাজের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই মাটির অংশের আধুনিকায়নের কাজ শুরু করা হবে।