বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহী জেলার চারঘাট ও উপজেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত এ দুটি উপজেলা। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিস্তার ও ভয়াবহতায় চরম উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় জন-সাধারণদের মাঝে। মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও মাদক ব্যবসার মূল হোতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। ফলে মাদকের ভয়াবহতাও বাড়ছে চরম ভাবে।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, পদ্মা নদী ও সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকা ব্যবহার করে মাদক চোরাকারবারীরা নানা কৌশলে ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা সহ বিভিন্ন রকম মাদক দেশে প্রবেশ করাচ্ছেন। এসব মাদক উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে বিক্রয় সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের কাছে এই দুটি উপজেলার পরিচিতি ব্যাপক ভাবে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, চারঘাট ও বাঘা উপজেলা এখন মাদকের রাজ্য। এই উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার রয়েছেন সক্রিয়। তারা নিজেরা নিরাপদ আস্তানায় বসে তাদের নিয়োগকৃতদের কর্মীবাহীনি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ মাদক কারবার।
বিভিন্ন সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে নিয়োগকৃত কর্মীরা আটক হলেও বরাবরই ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনকারী গডফাদাররা। সরজমিন উপজেলার সীমান্ত সহ বিভিন্ন মাদক প্রবন এলাকা ঘুরে জানা গেছে এমন চিত্র।
সরজমিন চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, রাওথা, পিরোজপুর, গোপালপুর, মোক্তারপুর, গৌরশহড়পুর, ইউসুফপুর, টাঙ্গন, ঝিকরা, শলুয়ার হলিাদাগাছী স্টেশন, নন্দনগাছী স্টেশন, পুঠিয়ামারী এলাকা মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ পালপাড়া, ভানুকর, হাবিবুরের মোড়, আতারপাড়া, হরিরামপুর, আলাইপুর, কেশরপুর, পানিকামরা উল্লেখ যোগ্য মাদক স্পট।
সীমান্তবর্তী উপজেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, যারা এক সময় খেতে পায়নি। তারা এখন চড়েন দামি গাড়ীতে। কিনছেন লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে জমি, মার্কেট, দোকান। এরকম প্রায় ৮-১০ জন মাদক কারবারী রয়েছেন যারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। সীমান্তবর্তী এলাকার মাদক কারবারীদের ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ট এলাকার মানুষ। বিকাল হলেই এসব মাদক স্পটে প্রতিদিনই আসছে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট যোগে মাদক সেবন ও নিতে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে মাদক কারবারীর সাথে জড়িত একটি অংশ রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের বলয়ও পরিবর্তন করে নেয়। ফলে ক্ষমতার পালা বদল হলেও তাদের ব্যবসায় কোন প্রভাব পড়ে না। ফলে মাঠ পর্যায়ে অভিযান চললেও সিন্ডিকেটের মুল হোতারা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়। তাদের দাবি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মাদক নিয়ন্ত্রন কঠিন হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, বর্তমানে সরকার দলীয় একজন ব্যাক্তি মীরগঞ্জ, আলাইপুর, আতারপাড়া, ভানুকর, হরিরামপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যাক্তি নিজে মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়াও তার রযেছে মাদক বহনকারী একটি বাহিনী। এছাড়াও তার নামে রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তারপরও প্রশাসনের কয়েকজন ব্যাক্তি ওই ব্যাক্তির কাছে নিয়মিত যোগাযোগ করেন বলে এলাকায় বাপক চাউর রয়েছে।
এ বিষয়ে চারঘাট সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার খালেদ হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযানে মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক সিন্ডিকেটের মুল হোতাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুলিশকে সহায়তায় সকলকে এগিয়ে আশার আহ্বান জানান তিনি।