পবার এক মসজিদের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবা উপজেলায় মসজিদের লিজ নেয়া পুকুরের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের ডাঙ্গিরপাড়া গ্রামের কিছু বিএনপির নামধারী নেতা, পতিত আওয়ামী লীগের কিছু দোসর ও গ্রাম্য মাতাব্বররা মসজিদের প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাত করার পাঁয়তারা করছে।
বিষয়টি পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) সমাধান করার চেষ্টা করলেও নামধারী নেতাদের কারণে পারছেন না। যদিও সহকারী কমিশনার ভুমি বলছেন, তাদের দুপক্ষকে ডাকা হলে যারা টাকা নিয়েছে বা যাদের কাছে টাকা রয়েছে তারা আমার অফিসে উপস্থিত হয়নি।
জানা গেছে, দুর্গাপুর-পবার সীমান্তবর্তি এলাকা পবা মোজা- ১৬৪ নং গরিহার ও ১৭০নং চকপারিলার মধ্যে খতিয়ান নং- ০১, দাগ নম্বর, আরএস ১৫৮৩ ও ১৬৪, পুকুর রয়েছে। এই পুকুরের সরকারী জমির সাথে রয়েছে ব্যক্তি মালিকানা জমিও। এই পুকুর সরকারী অংশ এবার চকপারিলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির থেকে ইজারা নেয়া হয়েছে। পুকুরের মধ্যে ১একর ৫৬ পুকুরের অংশ চকপারিলা মসজিদ কমিটি মৎসজীবী সমিতি থেকে লিজ নিয়েছে। মসজিদ কমিটির লোকজন পুনরায় ওই পুকুরের অংশ মোজাফ্ফর নামে এক ব্যক্তির কাছে তিনবছর মেয়াদে ১২লাখ ৬২ হাজার টাকায় লিজ দিয়েছেন। কিন্তু লিজ গ্রহিতা মোজাফ্ফর চকপারিলা মসজিদ কমিটির লোকজনের কাছ থেকে পুকুর লিজ নিলেও তাদের টাকা দেয়নি।
আওয়ামী লীগ নেতা মোজাফ্ফর যোগসাজস করে পার্শ্ববর্তি দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের ডাঙ্গিরপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার নুর ইসলাম লেলু, আব্দুর রাজ্জাক, আতের হাজি, আক্কাস আলীর কাছে ওই টাকা দিয়েছেন। বর্তমান মসজিদের ওই টাকা সাবেক মেম্বার নুর ইসলাম লেলু, আব্দুর রাজ্জাক, আতের হাজি, আক্কাস আলী আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন এমন অভিযোগ রয়েছে। মসজিদ কমিটি থেকে বারবার টাকার জন্য চাপ দেয়া হলেও তারা টাকা দিচ্ছে না। পুরো টাকা তারা আত্মসাত করার জন্য সংবদ্ধভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে লিজ গ্রহিতা একজন আওয়ামী লীগের দোসর। তাকে হাত করে নামধারি বিএনপি নেতা ও কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকে সাথে নিয়ে মসজিদের পুরো টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে।
এব্যাপারে চকপারিলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আকতার আলী জানান, সরকারী জায়গা মৎসজীবী সমবয় সমিতির নামে আমি লিজ নিয়েছিলাম। শুধু মাত্র ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে ওই পুকুর চকপারিলা মসজিদের নামে দেয়া হয়েছে। সামনে মসজিদের ছাদ ঢাকালাইয়ে কাজ হবে সেটি বিবেচনা করেই দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্গাপুরের কিছু ব্যক্তিরা পুকুরের টাকা নিয়ে নিজেরা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, মসজিদের অনেক কাজ বাকি আছে। সামনে ছাদটা ঢালাই দেয়া হবে, এতে টাকার প্রয়োজন। কিন্তু দুর্গাপুরের কয়েকজন ব্যক্তি পুকুর লিজের টাকা নিয়ে আর দিচ্ছে না। এতে থেমে গেছে চকপারিলা গ্রামের মসজিদের কাজ। তাদের সাথে বারবার বসা হলেও প্রভাবখাটিয়ে আমাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। তারা পুরো টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে।
এব্যাপারে পুকুরের টাকা নেয়া দুর্গাপুর ডাঙ্গিরপাড়া গ্রামের আক্কাস আলী দাম্ভিকতার সাথে বলেন, আমি টাকা নিয়েছি, আপনাদের যা করার করেন। তবে এর সাথে জড়িত আব্দুর রাজ্জাক টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আমি বিষয়টি জানি না। ওই টাকা সমাজের মাতাব্বারের কাছে আছে বলে শুনেছি। ঝালুকা ইউনিয়নের ১নং ডাঙ্গিরপাড়া ওয়ার্ড সদস্য নুর ইসলাম তার কাছে টাকা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, যার বৈধ কাগজ আছে সেই পাবে ওই পুকুরের টাকা। দুপক্ষ পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এব্যাপারে পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাহিদ হাসান বলেন, আমি বিষয়টি সমাধান করার জন্য দুপক্ষকে মঙ্গলবার আমার অফিসে ডেকেছিলাম। কিন্তু যারা টাকা নিয়েছে তারা কেউ আসেনি। তবে বিষয়টি সমাধান করার জন্য তাদের নিদের্শ দেয়া হয়েছে।


প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৫ | সময়: ৫:২১ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ