, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
এবার চৈত্রে তেমন একটা তাপপ্রবাহ লক্ষ্য করা না গেলেও মাত্র ২৫ দিনের ব্যবধানে বৈশাখের শেষে এসে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড তাপপ্রবাহ। এর ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃষ্টি না হওয়ায় কোনভাবেই কমছে না গরমের মাত্রা। প্রতিবছর এই সময়ে “ পাকা আম’’ বাজারে উঠলেও এবার এখন পর্যন্ত আম পাকাতো দুরের কথা, আঠি ঠিকমত পোক্ত হয়নি। বৃষ্টি না থাকায় তপ্ত রোদে ফেটে চৌচির হচ্ছে মাটি। এতে ধান চাষেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ছে না। পিচের রাস্তায় খালি পায়ে হাটার উপায় নেই। রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে পুকুর এবং খাল শুকিয়ে পানি কমে যাচ্ছে। অনেকস্থানপ টিওবয়েলে পানি পর্যন্ত উঠছেনা। বর্তমানপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে গরমের মাত্রা। ফলে হাসফাঁস করছে মানুষ এবং প্রাণীকূল।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গতকাল দেশের যত অংশ জুড়ে তাপের বিস্তার তা চলতি বছরে দেখা যায়নি। রাজধানীতেও প্রচন্ড গরম পড়েছে। রাজধানীর তাপমাত্রা ছিলো চলতি বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্র বেড়েছে ২.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। দেশের ৪৫টি জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে এই তাপ প্রবাহ এবং থার্মোমিটারের পারদ উঠেছে ৩৯.৭ ডিগ্রীতে। হটাৎ করে তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিউবয়েলে দেখা দিয়েছে খাবার পানি সংকট।
এদিকে গরমের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর সীমান্তবর্তী বাঘা-চারঘাট উপজেলা সহ অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জনজীবন অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে দু:স্থ দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট এখন চরমে। অনেকেই আশা করছেন বৈশাখে বৃষ্টির দেখা মিলবে। এরপর গরম-সহ তীব্র তাপপ্রবাহ কমবে। কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছে না। বরং দিনে তপ্ত রোধ ও গরম পড়লেও রাতের শেষ প্রান্ত ভোর বেলা থেকে সকাল পর্যন্ত রাজশাহীর নদী বিধৌত ও সীমান্ত এলাকা বাঘা-চারঘাট ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল গুলোতে কিছুটা ঠান্ডা আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অনেকেই বলছেন, দেশে জলবায়ুর কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশেই দেখা দিয়েছে জ্বর ও ডায়রিয়া-সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। মানুষের ঘন-ঘন এই রোগ হওয়ার কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডাক্তাররা বেশি বেশি পানি এবং ওরস্যালাইন ও লেবুর শরবত পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন সবাইকে।
সরেজমিন রবিবার (১১-মে) উপজেলার বাঘার হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরমে হাসফাঁস করছে মানুষ। আড়ানীর হাটে হলুদ কিনতে আসা একজন শিক্ষক গরমে অস্থির হয়ে পাশের এক দোকানে গিয়ে ফ্যানের বাতাসে বসে আছেন। অপর দিকে টিউবয়েলে পানি না উঠায় মানুষ স্যালো ম্যাশিন-সহ যাদের বড়িতে গভির নলকুপ জলমটার রয়েছে সেখানে থেকে পানি এনে জীবন অতিবাহিত করছেন। বিষয়টা এ রকম যে , মানুষ এখন পানির জন্য হাহাকার করছেন।
বাঘার আড়ানী পৌর সভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। অনেকেই তীব্র গরমে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য বাজারের বিভিন্ন দোকান গুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন- শষা, তরমুজ, ডাব, সরবত ও কোমল পানীয় ক্রয় করছেন। তার মতে, এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রনা দিচ্ছে বিদ্যুৎ এর ঘন-ঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ। তিনি যতদিন না বৃষ্টি হচ্ছে তার আগ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে ঠিকমত বিদ্যুৎ সরবরাহের জোর দাবি জানান।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান (টি.এইচ.ও) ডাঃ আসাদুজ্জামান বলেন,তীব্র গরমের কারণে দেশের সকল হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিক গুলোতে এখন রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-জ্বরসহ নানান রোগ জীবাণুতে আক্রান্ত রোগীরা ভিড় করছেন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গুলোতে। তার মতে, যে কোন মুহুর্তে বৃষ্টি নামবে এটায় স্বাভাবিক। আর বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে যাবে। তখন রোগ-বালাইও কমে আসবে।
সানশাইন /নুরুজ্জামান /শামি