সর্বশেষ সংবাদ :

বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের ছুটি চলছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি। এ ছুটি চলবে শনিবার পর্যন্ত। রাজশাহীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ঈদুল ফিতরের দিন থেকে বৃহস্পতিবার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তাপদাহের কারণে দুপুরে ভিড় কম থাকলেও বিকেল হতেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থানগুলো।
রাজশাহীর অন্যতম বিনোদনের স্থান হচ্ছে শহীদ জিয়া শিশুপার্ক, বড়কুঠি পদ্মার পাড়, সীমান্ত নোঙর, ভদ্রা শিশুপার্ক, রাজশাহী চিড়িয়াখানা ও কেন্দ্রীয় উদ্যান। সব জায়গায় কয়েকদিন ধারেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অনেক জায়গায় পা ফেলার মতো জায়গাও মিলছে না। রাইডারগুলোতে উঠার জন্য শিশুদের দীর্ঘ লাইনও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে প্রবেশ মূল্য ও বিভিন্ন রাইডারে চড়ার ফি এর কারণে দর্শনার্থীদের পকেট যেন ফাঁকা হওয়ার জোগাড়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষরা উচ্চ মূল্যে টিকিট কিনে বাচ্চাদের পুরোপুরি আনন্দ দিতে পারছেন না। বিনোদন কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও বিভিন্ন রাইডে বাচ্চাদের চড়াতে পারছেন না।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী শহীদ জিয়া শিশু পার্কে সরেজমিনে ঘুরে এবং দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহীদ জিয়া শিশু পার্কে প্রবেশ মূল্য প্রতিজন ৩০ টাকা। এই পার্কের ভিতরে প্রতিটি রাইডে আলাদা টিকিট মূল্যে রয়েছে। একজন শিশুকে পরিপূর্ণভাবে পার্কটি ঘোরাতে খরচ দাঁড়াবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। পার্কের গেটেও বসেছে নানান খেলনার দোকান।
রিকশাচালক হাসান ইমাম বলেন, ছুটিতে শিশু পার্কে এসেছি। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করেই যেন সমস্যায় পড়ে যাই। বিভিন্ন খেলনা ব্যবহার করতে যে পরিমাণে টাকা নেয়া হচ্ছে তা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছি। বাচ্চাদের খুশি করতে এসে উল্টো মন খারাপ করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে শান্ত নদীতে নৌকা ভ্রমনে আগ্রহ ছিল দর্শনার্থীদের। বুধবার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন শিশু নুসাইফা। নুসাইফা জানান, তার শিশু পার্ক ঘোরা শেষ। এখন পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছে নৌকায় চড়বে বলে।
বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরতে আসা মিলন জানান, চাকুরি জীবনে অবকাশ পাওয়া কঠিন। তাই ছুটিতে শিশুকে নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছেন। আগে থেকেই বায়না ধরে রেখেছিল ঈদের ছুটিতে কয়েক জায়গায় ঘুরতে যাবে।
বৃহস্পতিবার নগরীর উপশহর থেকে শহীদ জিয়া শিশুপার্কে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন বন্যা রহমান। তিনি জানান, তারা ঢাকায় থাকেন। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছেন। রাজশাহীর তার ভালোলাগে। ছুটিটাও লম্বা। তাই ঈদের ছুটি বেশ উপভোগ করছেন তিনি। বিকেলে সবাইকে নিয়ে বের হয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ঈদের ঘোরাঘুরিতে কিছুটা বাগড়া দিচ্ছে গরম। প্রচণ্ড গরমে মানুষ যেন দুপুরে বের হতেই পারছে না। এতো গরমে বের হলে শিশুরাও অসুস্থ হয়ে পড়বে।
এদিকে, ঈদ উপলক্ষে নগরীতে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চালকদের আয়ও বেড়েছে বেশ। তবে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ দিচ্ছে।


প্রকাশিত: April 4, 2025 | সময়: 2:55 am | সুমন শেখ

আরও খবর