, , ।
শাহালাল ইসলাম রাজশাহীঃ
পদ্মার দুর্গম চরে যৌথ বাহিনীর উদ্যোগে ১২ ঘণ্টার ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার দুর্ধর্ষ কাঁকন বাহিনীসহ ১১টি বাহিনীর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীসহ মোট ৬৭ জন গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক জব্দ করা হয়েছে।
এনিয়ে রোববার বিকেলে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন,পদ্মার চরে কাকন বাহিনীসহ ১১টি সন্ত্রাসী বাহিনীর আধিপত্য। তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, মানুষ হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে রাজশাহী, নাটোর, পাবনা এবং কুষ্টিয়া এলাকা থেকে ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জব্দ করা হয়েছে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় তৈরি ২টি বন্দুক, ৬টি পিস্তল, ২৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৫টি মোটরসাইকেল ও মাদকদ্রব্য। কুষ্টিয়া থেকে জব্দ করা হয়েছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্পিডবোর্ড, অস্ত্র রাখার সিলিন্ডার।
তিনি জানান, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পদ্মা পাড়ের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান সন্ত্রাস, মাদক পাচার, অস্ত্র ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটানোর জন্য এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এই অঞ্চল বহু বছর ধরে কাকন বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাইদ বাহিনীসহ নানা চক্রের দখলে ছিল। তারা খুন, জমি দখল, চোরাচালান, ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে জনগণকে আতঙ্কে রেখেছিল। এই অপারেশনের মাধ্যমে আমরা এই চরাঞ্চলকে অপরাধমুক্ত করতে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি।
শনিবার দিবাগত ভোররাতে অপারেশন ফার্স্ট লাইট শুরু হয়ে চলে দুপুর পর্যন্ত। পুলিশ, rab ও এপিবিএন এর বারোশো সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন৷
গেল ২৭ অক্টোবর চরে কাশের খড় দখলকে কেন্দ্র করে কাকন বাহিনীর গুলিতে বাঘায় আমান ও নাজমুল নিহত হয়। নিহত হন কাকন বাহিনীর এক সদস্য।
এর আগে পদ্মা নদীতে বড় বড় নৌকা ও স্পিডবোটে সশস্ত্র মহড়া দেয় কাকন বাহিনীর সদস্যরা। দখল করে পদ্মার চরের বালুমহল, কাশবন ফসলের মাঠ। গুলি করা, মানুষ হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ উঠে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
সানশাইন /শামি