, , ।
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা এলাকায় বিএনপি কর্তৃক শিবির কর্মী মারুফ, মুন্না এবং ফয়সালকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে যখম, নিরীহ জামাত-শিবির নেতা-কর্মীদের ওপরে দু’দফা হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, মোটর সাইকেলে আগ্নী সংযোগ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট এর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী বাঘা উপজেলা শাখা।
সোমবার (৩১ মার্চ) বাদ মাগরিব ইসলামী ফাউন্ডেশনের সাবেক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন তাঁরা। এ অভিযোগে জানা যায় , বিএনপির হামলায় এই মুহুর্তে রামেক হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন শিবির নেতা সৌরভ এবং স্থানীয় বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন শিবির নেতা মারুফ ও মুন্না ।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আলী বলেন, উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণ সেবা নিতে এসে নানা ভুগান্তির শিকার হচ্ছে। ইতোমধ্যে অসহায় দুস্থদের মাঝে ঈদ পূর্ববর্তী সময় ১০ কেজি করে চাল বিতরণ-সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ছেঁয়ে গেছে ইউনিয়ন পরিষদ। এ নিয়ে গত ২০ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউসা ইউনিয়ন সংগঠন একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। এ সময় শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমের ও তার সহযোগীরা মানববন্ধনে অতর্কিত হামলা চালায় । এ ঘটনায় ঐদিন দুপুরে জামায়াতে ইসলামী বাউসা ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান থানায় দোষীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ দিকে উক্ত ঘটনার জের ধরে ৩০ মার্চ সন্ধ্যার পর কোন ঘটনা ব্যতিত বাউসা ইউনিয়নের দীঘা ওয়ার্ডের ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি সৌরভ এর উপর অতর্কিত হামলা চালায় বিএনপি’র সভাপতি রেজাউল করিমের ভাতিজা আরাফাতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী। তাকে পথ রোধ করে বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। সেই সময় সৌরভের চিৎকার চেঁচা-মেচিতে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে বিএনপি নামধারী আরাফাত, রতন, মুমিন রাজীব, আকাশ ঘটনা স্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার কিছুক্ষন পর ঐ রাতে শিবির কর্মী মারুফ, মুন্না এবং ফয়সালকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে যখম করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এর মধ্যে শিবির নেতা মারুফ ও মুন্না স্থানীয় বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্যা সৌরভকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রামেক হাসপাতালে রেফার্ট করেছেন। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরাফাতের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন , ঘটনার সময় আরাফাত বাড়িতে অবস্থান করছিলো। সে উক্ত ঘটনার সাখে সম্পৃক্ত নয়।
অভিযোগে জামাত নেতারা আরো বলেন, ঈদের দিন বিএনপির নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসীরা রাত দশটার পর থেকে নিরীহ জামাত-শিবির নেতা কর্মীদের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের মত নিশংস খেলায় মেতে উঠেছে। এর মধ্যে বাউসা ওয়ার্ড জামাতের সভাপতি মিজানুর রহমান শিল্পীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে তার বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই লক্ষ টাকার বাদাম লুটপাট করে নিয়ে গেছেন তারা। একই সাথে বাউসার শিবির কর্মী রোহানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং তার বাড়ি থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং দুইটি বাইসাইকেল লুটপাট করেছে বিএনপির নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসীরা। একই সময়ে তারা বাউসা বাজারে অবস্থিত শিবিরকর্মী রোহানের স-মিলেও হামলা ভাঙচুর করেছেন বলে উল্লেখ করেন তাঁরা ।
এই সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার তীব্র নিন্দা ,প্রতিবাদ ও জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি-সহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে দেশে অস্থিশীলতা সৃষ্টি করার চক্রান্ত বন্ধ ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদপে গ্রহনের দাবি জানান তাঁরা।
এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা জিন্নাত আলী ও সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন-সহ জামায়াতের নেতা অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম,মাওলানা আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
তবে এই সংবাদ সম্মেলন শেষে বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, রাতের আধারে কে-বা কাহারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি তার জানা নেই। তিনি এ সংক্রান্তে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আ.ফ,ম আসাদুজ্জামান জানান, জামাতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিএনপি থেকে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়নি। বিষয় গুলো তদন্ত পূর্বব ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সানশাইন/ নুরুজ্জামান/রাজ