সর্বশেষ সংবাদ :

বাঘায় বাড়ছে পদ্মা আতঙ্কে চরবাসিন্দা

নুরুজ্জামান, বাঘা: রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে জেলার বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও পাকা সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। পানি আরও বাড়লে বন্যা ও নদী ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত রয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছরই চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। এবারও গত এক সপ্তাহ ধরে পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার পলাশিফতেপুর, দাদপুর, চকরাজাপুর, কালিদাসখালীসহ ১৪-১৫টি এলাকার মানুষ বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চকরাজাপুর-খয়েরহাট পাকা সড়কের একটি অংশ ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়েই যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকলে যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও লাইলি বেগম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি ধারাবাহিক ভাবে বাড়ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি সড়ক ও নিচু স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। চরাঞ্চল বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পানি দ্রুত কমতে শুরু না করলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীভাঙন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে প্লাবিত হতে পারে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নভূমি। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়বেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, চরাঞ্চলে বন্যা হলে প্রথমেই দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির সংকট। পাশাপাশি খাদ্যসংকট ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাঁদের। বন্যার পানি বাড়লে অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হয়। কেউ কেউ স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আলম বলেন, এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভূমিহীন ও খেটে খাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজ এবং বর্ষাকালে মাছ ধরে তাঁরা জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। কয়েক বছর ধরে চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করলে একদিকে ফসল তলিয়ে যাবে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হবে নবনির্মিত পাকা রাস্তাঘাট। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন চরাঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পদ্মার পানি আরও বাড়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বন্যার আশঙ্কায় থাকা চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও গবাদিপশু রক্ষায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি অসুস্থ হয়ে ছুটিতে থাকায়-তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


প্রকাশিত: September 3, 2026 | সময়: 4:54 am | সুমন শেখ