সর্বশেষ সংবাদ :

মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে আনসার সদস্য : ভবানীগঞ্জ বাজারের যানজট নিয়ন্ত্রণ করলেন ইউএনও

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ বাজারের যানজট যেন নিত্য দিনের ঘটনা। যানজট অতিক্রম করে চলাফেলাও অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। প্রশাসনের নজরে আসলেও অবৈধভাবে দোকানপাট সহ পার্কিং করার কারণে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
উপজেলা সদরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ভূমিকা নিলেও সেটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়নি। কিন্তু বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বাগমারায় যোগদানের পর থেকেই ভবানীগঞ্জ বাজারের যানজট নিরসনের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগে গ্রহন করেন। তার এই উদ্যোগে গ্রহনের কারণেই বর্তমানে ভবানীগঞ্জ বাজারের যনজট মুক্ত হয়েছে। সাধারণ পথচারী এখন নির্বিগ্নে চলাচল করতে পারছে। ব্যবসায়ীরাও নিশ্চিন্তে ব্যবসা করছেন এবং সকল প্রকার যানবাহনও স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারছে। বেশ কিছু আনছার সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে এই যানজট মুক্ত করেছেন ইউএনও।
তার আগে ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম নিজে কয়েকদফা বাজার পরিদর্শন করে বেশ কিছু কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। ব্যবসায়ীদের বসার স্থান নির্ধারন। যত্রতত্র ভাবে রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড়িয়ে লোডিং আনলোডিং বন্ধ করা সহ ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড় থেকে ভারী যানবাহন গুলো প্রয়োজন ছাড়া ভবানীগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং এসব ভারি যানবাহন কলেজ মোড়ের বাইপাস রাস্তা ব্যবহার করার মাধ্যমে যানজট মুক্ত হয় ভবানীগঞ্জ বাজার।
জানা গেছে, সাধারণ মানুষ সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত চলাচল করেন ভবানীগঞ্জ বাজারের এই সকল রাস্তায়। প্রতিটি রাস্তার মোড় যেন একেকটি বাজার। বারবার সিদ্ধান্ত হলেও এর আগে রাস্তা দখলমুক্ত হয়নি। যানবাহনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে অধিকাংশ রাস্তা থাকায় যানজটক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সরকারি এ সকল স্থানে ইচ্ছে মতন দোকানপাট নির্মাণ করে যানজট সৃষ্টি করছে ব্যবসায়ীরা।
বিশেষ করে ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়, জিরো পয়েন্ট, সিএনজি স্ট্যান্ড সহ গোডাউন মোড়ে ইচ্ছে মতন দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। উল্লেখিত স্থানগুলোতে প্রায় সময়ই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। সরকারি জায়গা দখল করে যানজট সৃষ্টি করার কারণেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এ থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। উল্লেখিত মোড় গুলোর অবৈধ স্থাপনা দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছে স্থানীয় যুবসমাজ। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একবার তদন্ত করা হয়েছে। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন পৌরবাসী।
জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিলকৃত আবেদন সূত্রে জানাগেছে, বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সংলগ্ন ভবানীগঞ্জ কলেজমোড়, এই মোড়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় যা দিনের বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকে। ভবানীগঞ্জ বাজারের মূল চালিকা শক্তি এই মোড়। এই রোডে আত্রাই উপজেলা এবং বাগমারা উপজেলার বেশকিছু ইউনিয়নের জনগণের এক মাত্র সংযোগ সড়ক, ১০ টিরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মূল সংযোগ সড়ক এবং ভবানীগঞ্জ বাজারের একমাত্র বাইপাস রোড। কলেজ মোড়টি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ে যেমন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি যানচলাচলও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বহুগুণ।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ের কাছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ণ বোর্ড কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত ফাঁকা জায়গায় এবং পাশের কিছু সরকারী জায়গায় স্থানীয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীর সাথে মিলিত হয়ে কিছু দোকানপাট সহ অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তুলেছে। এসকল অবৈধ স্থাপনা দোকানপাটের জন্য এক দিক দিয়ে যেমন ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ে যান চলাচলে বাধা বা ট্রাফিক জ্যাম তৈরী হয়েছে তেমনি এই জায়গাগুলো দিন দিন বেদখলে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগিদের অভিমত এই অবৈধভাবে দখল হওয়া জায়গা গুলোর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কলেজ মোড় আরো ফাঁকা ও বৃদ্ধি করা হলে তবেই যানজটের স্থায়ী সমাধান হবে। তা ছাড়া অন্যকোন ইউএনও এসে এসব আনসার সদস্য দিয়ে যানজট মুক্ত রাখার ব্যবস্থা বাতিল করে দিলে আবার পেূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে ভবানীগঞ্জ বাজার।
এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, কলেজ মোড়ের ওই জায়গাগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের। পানি উনয়ন বোর্ড যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যেহেতু এখানে হাইওয়ে না থাকায় ট্রাফিক পুলিশ দেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও কলেজ মোড় সহ বাজারের অন্যান্য স্থানে যানজট নিরসনে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


প্রকাশিত: March 17, 2025 | সময়: 4:01 am | সুমন শেখ