, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালিন সরকার প্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্লের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে রাজশাহীর প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। পরে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
দীর্ঘ খরার পর ভোট উৎসবের জন্য সবাই মুখিয়ে আছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ বলেন, সংস্কার কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত আকারে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে। আর যদি সংস্কার কার্যক্রম দীর্ঘ হয় তবে আগামী ২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভাব হবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। সরকার যখন চাইবে তখনই স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছবি ছাড়া ভোটার হওয়ার কোন সুযোগ নেই উল্লেখ করে ইসি মো. সানাউল্লাহ আরও বলেন, কোন জটিলতার কারণে যেন বৈধ নাগরিকরা ভোটার তালিকার বাইরে না থাকেন সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কোন ভাবেই যে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা না থাকে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর পর আর হয়তো বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, পর্দার বিষয় নিয়েও অনেক নারী ছবি তুলে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চায় না। আইনী বাধ্যবাধকতায় ছবি ছাড়া ভোটার নিবন্ধন করার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে ইসলামিক স্কলাররা অবশ্যই জাতীয় প্রয়োজনে ছবি তোলার পক্ষেয় কথা বলবেন। ছবি ছাড়া ভোটার নিবন্ধন হওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই মারা যাওয়া দেড় শতাংশের বেশী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। যার পরিমান প্রায় ১৮ লাখ। ধারণা করা এটি দুই শতাংশে দাড়াতে পরে। যার পরিমান হবে প্রায় ২৪ লাখ ভোটা।
সাংবাদিকের আরেক প্রেশ্নের জবাবে ইসি বলেন, বিগতদিনে ভোট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নির্বাচন কর্মকর্তারা আইনের আওতায় আসবেন। এ নিয়ে সংস্কার কমিশনের সুপারিশও রয়েছে। কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়।
রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা।
এদিকে পবায় তথ্য সংগ্রকারী, সুপারভাইজার ও নতুন ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নির্বাচন কমিশনার। এসময়, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে আস্থা সেটি ছিল না। পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দে তাদের নিজেদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে সেটাও নিশ্চিত করা হবে। সোমবার বিকালে পবা উপজেলার নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রকারী, সুপারভাইজার ও নতুন ভোটারদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ইতোপূর্বে ভোটার তালিকার তথ্য নিয়ে সমালোচনা ছিল। সুষ্ঠ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি সুন্দর, স্বচ্ছ এবং বির্তকহীন ভোটার তালিকা। এরমধ্যে কমিশন এবছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচী শুরু করেছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় যাতে নির্ভূল ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা যায়, সেজন্য সঠিক তথ্য সংগ্রহের আহবান জানান সংশ্লিষ্টদের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পবা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. মতিউর রহমান, নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সামসুদ্দীন প্রামানিক প্রমুখ।