মেয়র লিটনের পাশে অবিচ্ছেদ্য থেকে নগরবাসীর সেবা করতে চাই : মো: আলী কামাল 

স্টাফ রিপোর্টার : 
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর(২) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান নেতা এবং রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল। সোমবার রাতে দৈনিক সানশাইনের এর সাথে একান্ত সাক্ষাতকালে জানিয়েছেন রাজশাহীকে নিয়ে নিজের একান্ত চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনার কথা।

 

 

সানশাইন : একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সংসদ সদস্য পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এটাকে কিভাবে দেখছেন :
কামাল : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বাড়ানো,গৃহ নির্মাণ করে দেয়া, যার যে জায়গায় যোগ্যতা আছে সেখানে বসাচ্ছেন। এছাড়া জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০% চাকরির কোটা নিশ্চয়তা প্রদান করেছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর নেতৃত্বে দেয়া দুই জেনারেল মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাই করেছেন পুর্নবাসন করেনি। অথচ দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাস করে দিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে সম্মানিত করেছেন। আমি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ কারণ রাজশাহী শহরে সংসদীয় নির্বাচন করার জন্য আমাকে মনোনীত করেছেন।

 

 

সানশাইন : চলতি বছরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থেকে সভাপতি হওয়া এবং একই বছরে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন কিভাবে মূল্যায়ন করবেন ?
কামাল: বিষয়টি আমার কাছে মনে হয় জননেত্রী শেখ হাসিনা এটি আগেই সিলেক্ট করে রেখেছিলেন। আমি ছিলাম তিন নম্বর সহ-সভাপতি। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সাহেবকে যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য করা হয় ঐ একই চিঠিতে আমাকে সহসভাপতি থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। এবং এর পরবর্তীতে প্রত্যেকটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভার নেতৃবৃন্দদের নিয়ে মতবিনিময় করেন তখন সেই অনুষ্ঠানে একজন বক্তব্য রাখেন ও তিনি বলেন ,যদি ভারপ্রাপ্ত সভাপতিদের যদি সভাপতি করে দেয়া হয় তবে তারা আরো উৎসাহ পাবে। প্রধানমন্ত্রী ঐ মিটিংয়ে হাত তুলে সমর্থন জানান এবং সেখানেই জানান যারা এখানে উপস্থিত আছেন তারা একমত আছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সকলেই সমর্থন দেন। এরপর পার্টির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব এক চিঠিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতিদের সভাপতি করে ভারমুক্ত হওয়ার চিঠি দেন।

 

 

সানশাইন : সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হলে কি কি খাতে অগ্রাধিকার দিবেন ?
কামাল: আমি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থাকতে পছন্দ করি। রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল, ক্যান্সার সেন্টার,চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল তৈরিতে আমার ভূমিকা ছিল। আমি এমন কিছু জনহিতকর কাজ করতে চাই যেটি দীর্ঘমেয়াদী হবে যাতে জনগন এখান থেকে উপকৃত হয়।

 

সানশাইন : সিট মেয়র যেভাবে কর্মসংস্থান নিয়ে বৃহৎ পরিকল্পনা করেছেন আপনার কোন পরিকল্পনা রয়েছে কি না ?
কামাল : ক্রিকেটে রান তুলতে কিন্তু দুইজন ব্যাটসম্যান লাগে। রাজশাহীর উন্নয়ন হয়েছে শুধুমাত্র সিটি মেয়রের কারনে। এখানে অন্য কারো অবদান সেভাবে নেই। তাছাড়া তারা কোনদিন সিটি মেয়রের সাথে সমন্বয় করে কোন কাজ করেননি। আমি নির্বাচিত হলে মেয়র লিটনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিদিন অন্তত একবার রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে কথা বলবো, কর্মসংস্থানের ভাবনা নিয়ে। মিলেমিশে একজোট হয়ে রাজশাহীকে এগিয়ে নিতে চাই। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশকে ১৯৭১ সালে স্বাধীন করেছিলাম আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তুলবো এ ধারণায়। জননেত্রীর শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারলে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা।

 

সানশাইন : রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ও অঙ্গ সংগঠনের দ্বন্ধ নিরসনে কি ভূমিকা থাকবে ?
কামাল: আমি বলতে চাই,বড় দল আওয়ামী লীগ। মান অভিমান থাকতেই পারে। আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,স্বে”ছাসেবক লীগ,ছাত্রলীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ অন্য আরেকটি গ্রুপের মধ্যে নেই। সিটি নির্বাচনের সময়ও তারা মেয়র লিটনের পাশে এসে দাড়ায়নি। তারপরও আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছি। হয়তো একসময় এটাও নিরসন হয়ে যাবে।

 

সানশাইন :প্রবীন বয়সে সংসদ সদস্য পদে রাজশাহী সদর আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ৫ বছর পর কেমন রাজশাহী দেখতে চান?
কামাল : আমি বঙ্গবন্ধু সহ শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান এর সান্নিধ্য পেয়েছি এবং তাদের পাশে থেকে রাজনীতি করার সুযোগ হয়েছে। আমি অবশ্যই খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে সমন্বয় রেখে সেবা করতে চাই যেটা দৃষ্টিনন্দিত হবে ও যেখান থেকে রাজশাহী ও এখানের জনগণ সুফল ভোগ করতে পারে।

সানশাইন / শামি


প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২৩ | সময়: ৮:২৮ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর