, , ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে বীণা বেগম (৪৭) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মসজিদ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক স্বামী ওমর আলী কাজী (৫৫) ও প্রথম স্ত্রী রাজিয়া খাতুনকে (৫০) গ্রেফতার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। গভীর রাতে হত্যাকান্ডের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার বিকালে গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বীণা বেগম সাহাপুর মসজিদ মোড় এলাকার হাবিবুর রহমানের মেয়ে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানান, পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলায় জনৈক এমদাদুল হকের সাথে বীণা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়। সেখানে বীণার ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে রয়েছে। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় কয়েক বছর আগে উভয়ের ছাড়াছাড়ি হলে বীণা সাহাপুরে বাবার বাড়ির পাশেই বাড়ি করে বসবাস করতেন।
এরইমধ্যে বছর খানেক আগে একই এলাকার ওমর আলী কাজীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে বীণার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। কাজী ওমরের এটি তৃতীয় বিয়ে। তার এক স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হলেও ঘরে আরেক স্ত্রী রয়েছে। স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে বীণাকে তৃতীয় বিয়ে করে। তবে বিয়ের পর বীণা নিজ বাড়িতেই থাকতো। ওমর আলী কাজী ওই বাড়িতে যাতায়াত করতো। এসব নিয়ে সংসারে তীব্র অশান্তির সৃষ্টি হলে ওমর আলী কাজী বীণাকে তালাক দেয়।
তালাকের নোটিশ পেয়ে বীণা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দিয়ে শনিবার সকালে ওমর আলী কাজীর বাড়িতে গিয়ে তালাক দেওয়ার কারণ জানতে চায়। সেখানে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে বীণা বেগম তার সাবেক স্বামী ওমর আলী কাজী ও তার প্রথম স্ত্রী রাজিয়া বেগম লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে খড়ির ঘরে লাশ লুকিয়ে রাখে।
পরবর্তীতে রাতে নিহত বীণার আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা হত্যাকান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে লাশ উদ্ধার করে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক স্বামী ওমর আলী কাজী (৫৫) ও প্রথম স্ত্রী রাজিয়া খাতুন (৫০) কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, হত্যান্ডের ঘটনায় নিহত বীণা বেগমের মেয়ে ইসরাত জাহান বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলাতেই আসামীদের গ্রেফতার দেখিয়ে পাবনা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।