কলকাতায় ড্রোন ক্যামেরা উড়িয়ে থানা হাজতে বাঘার দুই যুবক

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘার দুই যুবক ভারতের কলকাতায় ড্রোন ক্যামেরা উড়িয়ে ভিডিও ধারণ করার অপরাধে তাদেরকে আটক করেছে সেখানকার পুলিশ। আটককৃতরা হলো কোরিয়া প্রবাসী আব্দুল লতিফের ছেলে সিফাত আলী (২২) ও তার চাচা মোহাঃ জিল্লুর রহমান(৩৫)। গত বুধবার (১০-আগষ্ট) আটকের পরে তাদের বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়। এরপর কলকাতা আদালত ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তাদের পুলিশ হেফাজতে রেখে জিঙ্গাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন ।

সূত্রে জানা গেছে , ফোর্ট উইলিয়ামের মধ্যে অন্তত দুই কিলোমিটারের ভেতর অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেহেতু দুই বাংলাদেশি ড্রোন উড়িয়ে ভিডিও করেছেন, তাদের আসল উদ্দেশ্য কী তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ জন্য ভিডিওগুলো ফ্রেম টু ফ্রেম পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে ভিক্টোরিয়ায় ওড়ানো ড্রোনটি চীনের তৈরি। তাই বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ভারতীয় পুলিশ । কলকাতার সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কোলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, গত ৯ আগস্ট পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে কলকাতায় আসেন দুই বাংলাদেশী যুবক। বুধবার বিকেলে ভিক্টোরিয়ায় ঘুরতে আসেন তারা। এ সময় ডিউটিরত সিআইএসএফ কর্মীরা হঠাৎ ভিক্টোরিয়া চত্বরে একটি ড্রোন ক্যামেরা উড়তে দেখেন। পরে ড্রোন-সহ তাদের আটক করা হয়।

তবে নাম প্রকাশ না করার সর্তে ভারতের এক নাগরিক জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা (দুর্গ) হিসেবে ব্যবহত ভিক্টোরিয়ায় ছবি তুলে আটকের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বছর তিনেক আগেও ফোর্ট উইলিয়াম লাগোয়া ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ড্রোন উড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এক বিদেশি নাগরিক।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলার মিলিক বাঘা গ্রামের বাসিন্দা ও সিফাতের মা’ সেলিনা খাতুন (শাপলা) জানান গত ৯ আগষ্ট বৈধ ভিসায় কলকাতায় গিয়েছেন তাঁর একমাত্র ছেলে সিফাত ও তার চাচা জিল্লুর রহমান। সেখান থেকে আমার জন্য ঔষধ ক্রয় ও বেড়ানো সহ কিছু কেনাকাটা করে দেশে ফেরার কথা।
কিন্তু সখের বসে ড্রোন উড়িয়ে ছবি তুলেছে এটায় তাদের অপরাধ। বাস্তব অর্থে সেটি সংরক্ষিত এলাকা এটা তাদের জানা ছিলনা। তার দাবি, বৈধ ভিসায় বিভিন্ন দেশে ঘুরতে গিয়ে এর আগেও ছবি তুলা তুলেছি। তবে কোনদিন বাধার সম্মুখিন হয়নি। সেখানকার পুলিশের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আদালতে হাজিরের পর জিজ্ঞাসা বাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সিফাতের মা’ আরো জানান ২০১৩ সালে গ্রীণ কার্ডের মাধ্যমে তারা দক্ষিন কোরিয়ার বাসিন্দা হন। এরপর ২০২১ সালে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন। অত:পর বিশ্ব ব্যাপি করোনা শুরু হলে সে সময় থেকে তারা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তার ছেলে সেই দেশের ইনসোন ইউনির্ভাসিটি বিবিএ (ট্রেড এ্যান্ড কমার্স)এর ছাত্র। চলতি মাসের ২৯ আগষ্ট দক্ষিন কোরিয়া যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কাটা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি । কিন্তু এর আগেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে গেল। তিনি উক্ত বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের পরারাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমঝতার দাবি জানিয়েছেন।


প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২২ | সময়: ১১:৫৮ অপরাহ্ণ | সানশাইন

আরও খবর