, , ।
লিয়াকত আলী বাবলু,মহাদেবপুর :
মহাদেবপুরে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিযোজন এর লক্ষ্যে ব্যতিক্রম উদ্যোগ হাতে নিয়েছে বিএসডিও-গেটকা প্রকল্পের যুব ফোরাম সদস্যরা।
দুর্যোগকালীন সময়ে পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বসতবাড়ির ঘরের চালে লতা জাতীয় সবজি চাষের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি , আয়বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট স্থানে অপচনশীল পলিথিন ও প্লাষ্টিক পণ্য সুরক্ষায় তারা অভিনব ও সৃজনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে।
উদ্যোগের অংশ হিসাবে যুব ফোরামের সদস্যরা উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের দেবীপুর(আড্ডা বাড়ি) কর্মকারপাড়া গ্রামের ২০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের মাঝে সবাজি চাষের জন্য বালতি, বিভিন্ন লতা জাতীয় গাছের চারা, আপদকালীন সময়ের সঞ্চয়ের জন্য ১টি করে মাটির ব্যাংক এবং যত্রতত্র পলিথিন ও প্লাষ্টিক পণ্য বাহিরে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করার জন্য ১টি করে বস্তা সরবরাহ করেছে।
যুব ফোরামের উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ আগস্ট শনিবার দুপুরে দেবীপুর কর্মকার পাড়ায় উপকারভোগিদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মহাদেবপুর উপজেলা লোকমোর্চা কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিএসডিও-গেটকা প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী মোঃ আতাউর রহমান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাজুর ইউপি সদস্য ও প্যালেন চেয়ারম্যান মর্জিনা বেগম, যুব ফোরাম সদস্য বুলবুলি মহন্ত, মৌসুমী আকতার, সোহান হোসেন, প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ময়না রানী, মিলন লাকড়া, সুমিতা দেবনাথ প্রমুখ। বক্তারা চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং নিজেদের প্রস্তত রাখতে গৃহিত যুব উদ্যোগের প্রসংসা করেন এবং কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভুমিকা রাখার জন্য উপকারভোগিদের অনুরোধ জানান। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিযোজেনের ক্ষেত্রে যুবদের এই উদ্যোগ সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলেও বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা ২০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের সদস্যদের মাঝে ১টি করে বালতি, ১টি করে মাটির ব্যাংক,১টি করে বস্তা এবং বিভিন্ন গাছের চারা বিতরণ করেন।
এ বিষয়ে গেটকা প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ময়না রানী বলেন, মহাদেবপুর উপজেলা যুব ফোরাম গৃহিত উদ্যোগ ছোট হলেও এর সুদুরপ্রসারি প্রভাব রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারগুলোর সবজি চাষ করার মত নিজের জায়গা না থাকায় তারা বালতিতে লাউ, কুমড়ো, শিম গাছ লাগিয়ে বসত বাড়ির ঘরের চালে তুলে দিবে। মাটির ব্যাংকে তারা আপদকালীন সময়ের জন্য সঞ্চয় করবে এবং বস্তায় অপোচনশীল প্লাষ্টিক ও পলিথিন জাতীয় পণ্য সংগ্রহ করে পরিবেশ সুরক্ষায় ভুমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য যে, বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও) এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সুইজ্যারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর, সাপাহার ও মান্দা উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ৩০মাস মেয়াদী “জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ট্রান্সফর্মস ক্লাইমেট অ্যাকশন” (গেটকা) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।