ধানের শীষের প্রচারে আ’লীগ নেতা ‘আমাদের একটা ছাতা দরকার’

স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। প্রচারণায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে তিনি বলছেন, ‘আমাদের একটা ছাতা দরকার।’
এই আওয়ামী লীগ নেতার নাম সুনন্দন দাস রতন। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক এবং বর্তমানে ২০২৪ সালের উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তবিত কমেটির সহ সভাপতি। গোদাগাড়ীর প্রেমতলী গ্রামে তার বাড়ি। সাব্বির রহমান নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মী মঙ্গলবার তার ফেসবুক আইডিতে একটি ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করেছেন, যাতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের এই নেতা রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন।
যোগাযোগ করা হলে সুনন্দন দাস রতন জানিয়েছেন, এই ভিডিওটি গোদাগাড়ীর মোহনপুর ইউনিয়নে প্রচারণার সময়। তিন-চারদিন আগে প্রচারণার সময় কেউ ভিডিওটি করেছিল। নিয়মিতই ধানের শীষের প্রচারণা করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাচ্ছি, মাঝে মাঝেই যাচ্ছি যখন সুযোগ হয়।’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন ব্যক্তিকে সুনন্দন দাস রতন বলছেন- ‘এবারকার নির্বাচনটা দল-মত নির্বিশেষে আমাদেরকে ধানের শীষেই, শরীফ সাহেবকে দিতে হবে। তাই না? সেইজন্যই আমরা গোটা গোদাগাড়ী উপজেলায় আদিবাসী সম্প্রদয়ের ভিতরে যোগাযোগ করছি। ঠিক আছে? আমাদের ছাতা দরকার। এবার শরীফ সাহেবকেই যেন সবাই ভোট দেয়।’
বিষয়টি অন্যদেরও জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সবাইকে বলে দিবেন, সবাই ভোট দিবে। ঠিক আছে? আমরা সেই পথেই আগাচ্ছিলাম। শরীফ সাহেব জিতলে আমাদের একটা আশ্রয়র দরকার। আমাদের তো এখন ছাতার দরকার। ঠিক আছে? এটা বলার জন্যই এসেছি। আপনারা সবাইকে বলে দিবেন পাড়ায় পাড়ায়।’
এই ভিডিও প্রকাশ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী সাব্বির লিখেছেন, ‘১৭ বছর আওয়ামী লীগের পোষ্ট ব্যবহার করে, আওয়ামী লীগ থেকে সুবিধা নিয়ে আজ বিএনপির জন্য ভোট চাচ্ছে তার নিজ স্বার্থের জন্য। এই রতন দাস আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সুদিনে আবার আওয়ামী লীগের বড় নেতার চামচামি করে হয়তো গোদাগাড়ীতে রাজনীতি করার সুযোগ খুঁজবে। তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে যান।’
সুনন্দন দাস রতন কাস্টমসের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। চাকরিজীবনে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পর তিনি এলাকার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নজরে আসেন। দলে পদ পান। ফারুক চৌধুরী তাঁকে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ দেব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ট্রাস্টিও করেন। ২০২৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন তিনি।
সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকাসহ নানা অপকর্মের কারণে গত বছরের ৮ ফেব্রয়য়ারি তাকে খেতুরী ধামের ওই ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের জুন মাসে অভিযোগ ওঠে, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার এই আওয়ামী লীগ নেতার প্রাইভেটকারে চড়ছেন। তখন সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজও সামনে এসেছিল।
তাকে ধানের শীষের প্রচারণায় নামতে কেউ নির্দেশনা দিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে রতন বলেন, ‘এটা আমার নিজের ইয়েতেই করছি।’ আওয়ামী লীগের পদে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিলাম না। কমিটি গঠন হয়নি। আমি চাকরি করে অবসর নিয়েছি ’২১ সালে। আমরা শখ ছিল একটা নির্বাচন করার। ওই জন্য নির্বাচন করেছিলাম, তা-ও স্বতন্ত্র। দলীয় কোনো অ্যাক্টিভিটিতে ছিলাম না।’
তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক কি না জানতে চাইলে বলেন, সমর্থক থাকব না কেন? সমর্থক আছি। সমর্থক তো অনেকজনই আছে।
ধানের শীষেরই প্রচারণা কেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এগুলো প্রশ্নর উত্তর আমি মোবাইলে দিতে পারব না। এইটা সামনে দেখা হলে বলব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শাওয়াল বলেন, এটা আমি শুনিনি। কেউ যদি নিজে নিজেই করে, তাহলে তো তাকে নিষেধ করতে পারব না।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ | সময়: ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ