বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রির্পোটার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারর্পাসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজশাহীজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোক ও বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার সকালের দিকেই বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক নেতাকর্মীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। এছাড়াও প্রত্যেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। সবার পোস্টেই আপসহীন দেশনেত্রীর মহাপ্রয়াণের কথা উঠে এসেছে। অনেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ বড় এক রাজনৈতিক দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
নগরীর মালোপাড়ায় অবস্থিত রাজশাহী মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সেখানে শোক প্রকাশ, স্মৃতিচারণ এবং দোয়ার আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগর ও জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান, বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম ) বিএনপির সভাপতি সামসুল ইসলাম মিলু, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান শরীফ, আবু, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।
নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় পৃথকভাবে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারীরা মরহুমার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতা। তার নেতৃত্বে বিএনপি বহু সংকট মোকাবিলা করেছে। তার মৃত্যুতে শুধু বিএনপি নয়, গোটা জাতি একজন পরীক্ষিত রাষ্ট্রনায়ককে হারাল।”
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, “এই শোকের মুহূর্তে বেগম জিয়ার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে ধারণ করে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যেতে হবে।”
এক শোক বার্তায় রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, আপসহীন দেশনেত্রী আমাদের মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো। এটি পূরণ হওয়ার নয়। বাংলাদেশ এক দেশ প্রেমিককে হারালো। তিনি সারা জীবন দেশ এবং দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেননি। বেগম খালেদা জিয়াকে হারিয়ে আমরা শোকে কাতর। আমরা বেগম জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই এটি ভাবতে পারছি না আমরা। রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা পূরণ কখনোই হবে না। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দেশে এক দেশ প্রেমিক নেত্রীকে হারালো। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ ত্রাণ ও পুনর্বাসক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ, দেশপ্রেমিক ও সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ ও সংগ্রামী নেতাকে হারালো।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে চিরদিনের মতো একজন আপসহীন নেত্রীর শূন্যতা সৃষ্টি হলো। অত্যন্ত গভীর পরিতাপ ও দুঃখের সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করছি।
সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র যখনই বিপদে পড়েছে তখন বেগম জিয়া তার সমস্ত শক্তি নিয়ে দেশ ও জনগণের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। যে কারণে মানুষ তাকে মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী হিসেবে জানে। উনার মৃত্যুতে গভীর শোক জানাচ্ছি।
এক শোক বার্তায় জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশের দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। উনার মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।
গভীর শোক ও শোকায়িত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা। তিনি শোক বার্তায় বলেন, সামান্য একজন গৃহীনি থেকে বেগম জিয়া দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দুইবার বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি তেইসটি আসনে নির্বাচন করে সব গুলোতে বিজয়ী হয়েছিলেন। এই মহিয়শী নেত্রীর মৃত্যুতে বিএনপি তথা দেশবাসীর অপুরণীয় ক্ষতি হলো। কোনভাবেই এই ক্ষতি পুরণ হওয়ার নয়।
গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও রাজশাহী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। মঙ্গলবার এক শোক বিবৃতিতে তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ, দেশপ্রেমিক ও সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, ইসলামী মূল্যবোধ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ ও সংগ্রামী নেতাকে হারালো। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি, তিনি যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
এছাড়াও শোক প্রকাশ করেছেন মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, রাজশাহী জেলা তাঁতীদলের সভাপতি কুতুব উদ্দিন বাদশা সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
শুধু বিএনপি নয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা ও অপূর্ণ ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
এছাড়াও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়েও শোকসভা, কোরআন খতম এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। অনেক স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন।
শোক জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ হারালো এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীন ছিলেন জননেত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে দেশের যে ক্ষতি হয়ে গেল তা কোনদিন পূরণ হবার নয়। শোক বার্তায় তিনি আরো জানান, আল্লাহতালা যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ছিলেন। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল ছয়টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে রাজশাহীসহ সারাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।