বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রির্পোটার: রাজশাহীতে মার্চ টু ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কর্মসূচি পালন করেছে ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী ‘জুলাই ৩৬ মঞ্চ’। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর ভদ্রা মোড় থেকে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয় পর্যন্ত মার্চ কর্মসূচি শুরু করে তারা। তবে মাঝপথে পুলিশের বাধায় কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সাড়ে ১২টার দিকে মার্চ শুরু হলে সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার আগেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নেন এবং সামনে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি চান। তবে প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পরও অনুমতি না পাওয়ায় তারা জোরপূর্বক সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে তাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর অংশগ্রহণকারীরা ব্যারিকেডের সামনে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় তারা সেখানে অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনোভাবেই সহকারী হাইকমিশন সংলগ্ন সড়কে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। এ সময় জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক হযরত আনাস, রাজশাহী মহানগরের অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব সোয়েব আহমেদ, জেলা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা সাংগঠনিক সম্পাদক ইফফাত উদ্দিন আবির, জুলাই যোদ্ধা আবু রায়হান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাটোর জেলার মুখপাত্র বুশরাসহ ১৫-২০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পরে জুলাই যোদ্ধা মিফতাহুল জান্নাত বিভা বলেন, ভারত পলাতক সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়েছে। তাই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় তিনি তিনদফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ভারতে সব পলাতক আসামিকে ফেরত পাঠাতে হবে, তাদের ফেরত না দিলে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনকে প্রত্যাহার বা স্থগিতাদেশ দিতে হবে এবং এই কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এসব দাবি লেখা একটি কাগজ তারা নগরের বোয়ালিয়া জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) গোলাম রাব্বানী শেখের কাছে হস্তান্তর করেন। গোলাম রাব্বানী শেখ বলেন, ‘তিনটি দাবির মধ্যে দুটি জাতীয় পর্যায়ের বিষয়। আমরা এই চিঠি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব। আর পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেটা আমরা ভিডিও দেখে ব্যবস্থা নেব।’