সর্বশেষ সংবাদ :

আমগাছ কেটে সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষক

নুরুজ্জামান, বাঘা: আম প্রধান এলাকা হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘায় গত কয়েক বছর ধরে আমের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় লোকসান গুনছেন কৃষকরা। এ জন্য অনেকেই আম বাগান কেটে সাবাড় করে দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার বিঘা জমির আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অনেকেই তথ্য দিয়েছেন। তবে কৃষি বিভাগে গাছ কেটে ফেলার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। কৃষকদের দাবি, আম গাছ কেটে ফেলা জমি গুলোয় এখন সবজি চাষ করে তারা লাভবান হচ্ছেন। একই সাথে কৃষকরা ঐসব জমিতে নতুন জাতের আম গাছ লাগাচ্ছেন। কৃষকরা বলছেন, ভালো জাতের আম বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা আছে। এ কারণে আমরা পুরাতন জাতের আম গাছ কেটে ফেলছি।
বাঘা উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানা গেছে, রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে, এদিক থেকে বাঘায় রয়েছে প্রায় দশ হাজার হেক্টর আম বাগান। এ কারণে আম এ উপজেলার প্রধান অর্থকারী ফসল হিসাবে চিহ্নত করা হয়। এ উপজেলায় ৫০০ বছর পূর্বে সুলতানী আমলে নির্মিত বাঘার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের টেরাকোটায় আমের ছবি দৃশ্যমান। এ থেকে প্রমানিত হয়, আমের দেশ রাজশাহী। তবে স্বাদে-গুণে বাঘার আমের খ্যাতি সারা দেশ জুড়ে। এ উপজেলা থেকে প্রতি বছরই কম-বেশি আম বিদেশে রপ্তানী করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘা উপজেলায় প্রায় দশ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে পুরনো ও কম উৎপাদনশীল জাতের শত-শত বিঘা জমির আম গাছ কেটে তার বিপরীতে উচ্চ ফলনশীল জাতের আম গাছ পুনরায় লাগানো শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে কতো হেক্টর জমির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে তার সঠিক জরিপ এখনো করা হয়নি। তবে কৃষকরা ঐ সব জমিতে আনেকেই লাভজনক ফল-ফসল হিসাবে কূল, পেয়ারা, কলা, ড্রাগন ও নানা রকম সবজি চাষ করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌর সভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমগাছ কেটে ফেলা হয়েছে বাজুবাঘা এবং বাউসা ইউনিয়নে। এ ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়ন এবং পৌর সভাতেও কম-বেশি আমগাছ কাটা হয়েছে। এরমধ্যে লক্ষণ ভোগ, ফজলি এবং গুঠি জাতের আম গাছ বেশি কাটা হচ্ছে।
প্রক্ষান্তরে উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত বৈশিষ্ট হিসাবে রোপন করা হচ্ছে, আম্রপালি, কাটিমন, বারি-১৫, বারি-১৬, বারি-১৭ গৌড়মতি, কাটিমন এবং ব্যানানা জাতীয় নতুন জাতের আম। এসব আম ইতোমধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই আমও বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করেছে।
এলাকার আম চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচর্যা খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে আমের দাম দিন দিন কমছে। ৭-৮ বছর আগে যে আম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে, সেই আম গত কয়েক বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। তাই সমপরিমাণ জমিতে আম বাগানের চেয়ে অন্য যে কোনো ফসল চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তাই আম বাগানের জমিগুলো এখন অন্য ফসলের মাঠে পরিণত হচ্ছে। তবে এ সকল কৃষকদের মধ্যে অনেককেই সবজি চাষ হিসাবে জমি তৈরীর পাশা-পাশি সারিবদ্ধ ভাবে উন্নত জাতের আম বাগান তৈরী করছেন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার বলেন, মূলত অনেক পুরনো এবং কম উৎপাদনশীল জাতের আম বাগানে চাষিরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান না হওয়ায় সেগুলো কেটে ফেলছেন। পক্ষান্তরে ওই জমি গুলোতেই ড্রাগন, পেয়ারা, কুল সহ উচ্চ ফলনশীল এবং বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক ফল চাষ করছেন।


প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২৫ | সময়: ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ