সর্বশেষ সংবাদ :

চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা অভিযোগ এনজিও কর্মকর্তার জিডি

প্রেমতলী প্রতিনিধি: রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। এবার এমনই অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে স্থানীয় একটি এনজিও কর্মকর্তার কাছে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও ভয়ভীতির ঘটনা ঘটনায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মখলেসুর রহমান (৪২) প্রতিকার চেয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে অভিযোগ ও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রোকশানা বেগম চম্পা নামে এক নারী দুই সহযোগীকে নিয়ে সরাসরি তার অফিসে গিয়ে চাঁদার দাবি করেন।
মখলেসুর রহমান জানান, গত ১৫ মে অফিস চলাকালিন সময় বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে অফিস শেষে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রোকশানা বেগম লোনের বিষয়ে কথা বলার অজুহাতে তার অফিসে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে দুইজন পুরুষও অফিসে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন।
হঠাৎ করে তারা ৭ লাখ টাকা দাবি করে বলেন, টাকা না দিলে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হবে এবং সম্মানহানি ঘটিয়ে তার চাকরি নিয়ে বিপদে ফেলা হবে।
ভুক্তভোগী আরো জানান, পরিস্থিতির চাপে সম্মান রক্ষার জন্য তিনি সাময়িকভাবে তাদের ২০ হাজার টাকা দিয়ে অফিস থেকে বের হতে বলেন। তবে বের হওয়ার সময় সাহস করে ‘চাঁদাবাজ’ বলে চিৎকার করলে আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা টাকা ফেলে পালিয়ে যান। পরে তিনি সেই টাকা উদ্ধার করেন।
পরদিন ১৬ মে রাত ৮টা ৫ মিনিটে রোকশানা বেগম চম্পা তার মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে দ্রুত টাকা দিতে বলেন। মেসেজে উল্লেখ করা হয়, টাকা না দিলে অফিসে গিয়ে আবারও ঝামেলা তৈরি করা হবে। এরপর ১৭ মে ওই নারী এনজিওর প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে মখলেসুর রহমানকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দেন।
সহকর্মী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত রোকশানা বেগম এবং তার সহযোগীরা এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলা ও সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবির চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
মখলেসুর রহমান জানান, ‘আমার পরিবার এবং আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতিনিয়ত মানসিক অস্থিরতায় দিন কাটাচ্ছি। আমি চাই প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিক।’
এ বিষয়ে রোকশানা বেগম চম্পার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলনে, কিস্তির সুত্র ধরে ৪ বছর থেকে তার সাথে আমার চলা ফেরা। সে অমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি তাকে বলি আমার সন্তান রয়েছে। তাদের মেনে নিলে আমি রাজি। গত ১৫ মে আমি আমার ভাই বোনকে নিয়ে তার অফিসে যাই। সে সবুজ কাগজে আমার স্বাক্ষর নিয়ে বলে আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। আমরা এখন স্বামী-স্ত্রী।
তার অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মত চলা ফেরা করেছি। আমার সন্তানদের বুঝাবার জন্য তার কাছে বিয়ে রেজিস্ট্রারের কাগজ চাইলে সে আমাকে অস্বীকার করে। তাই বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।


প্রকাশিত: July 20, 2025 | সময়: 4:13 am | সুমন শেখ