সর্বশেষ সংবাদ :

দেশে ৮ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক

ইবতিদা ফেরদৌস: বাংলাদেশে প্রতিদিনই নতুন জীবন জন্ম নিচ্ছে, কিন্তু সেই জীবনের একাংশ জন্মের পর থেকেই লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে। তাদের দোষ একটাই বাবা-মা কেউই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করেননি। ফলাফল, সন্তান জন্ম নিয়েছে এক মরণব্যাধি নিয়ে থ্যালাসেমিয়া।
থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের বংশগত রক্তরোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে স্বাভাবিকভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে রক্তের লোহিত কণিকা নষ্ট হয়ে যায়, রক্তশূন্যতা দেখা দেয়, এবং রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে সারাজীবন রক্ত নিতে হয়। চিকিৎসা ব্যয়বহুল, জটিল এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আজীবন নির্ভরশীলতা তৈরি করে।
থ্যালাসেমিয়া সংক্রমিত হয় বংশগতভাবে। যদি বাবা ও মা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তবে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২৫ শতাংশ, বাহক হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ, এবং একেবারে সুস্থ সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে মাত্র ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, বাবা বা মা যে কোনো একজন বাহক হলে সন্তান আক্রান্ত হয় না, কিন্তু সে নিজে বাহক হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মে জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে। এই রোগের বাহক কিনা তা জানার একমাত্র উপায় হলো ‘এইচ বি ইলেক্ট্রোফোরেসিস’ টেস্ট।
এটি একটি সহজ রক্ত পরীক্ষা, যেটি যেকোনো আধুনিক মেডিক্যাল সেন্টার বা ডায়াগনস্টিক ল্যাবে করা যায়। পরীক্ষার ফলেই জানা যাবে আপনি থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা। এই টেস্টটি বিয়ের আগে করা উচিত নিজের ও ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে একজন এই রোগের জীবাণু বহন করেন, অথচ জানেন না।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ নবজাতকের মধ্যে প্রায় ২ জন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হয়ে জন্ম নিচ্ছে। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং একটি জাতীয় সংকট।
রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগিদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতামুলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে। রক্ত বন্ধন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রুমেল রহমান জানান, দেশের অনেক পরিবার এখন এই রোগের কারণে আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একটি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয় যা সাধারণ পরিবারের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে বহন করা প্রায় অসম্ভব। থ্যালাসেমিয়া এমন এক রোগ যার কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই কেবল প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।
বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করলে সহজেই বোঝা যায় উভয় পক্ষ বাহক কিনা। যদি উভয়েই বাহক হন, তবে সন্তান জন্মের আগে চিকিৎসা পরামর্শ নিয়ে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
অনেক দেশেই এখন ‘প্রি-ম্যারিটাল ব্লাড স্ক্রেনিং’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে এটি বাংলাদেশেও চালু করা জরুরি। গাইনী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা তাবাসসুম ফেরদৌস বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। মানুষ যদি বিয়ের আগে মাত্র একবার রক্ত পরীক্ষা করত, তাহলে শত শত শিশু আজ বেঁচে থাকত। সচেতনতা ছাড়া এ রোগ বন্ধ করা সম্ভব নয়।


প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৫ | সময়: ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর