বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
টিপু সুলতান, তানোর: আমরা বড়দের কাছ থেকে শুনে এসেছি কোন ব্যাক্তি মারা গেলে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের সদস্যরা মানুষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। যা ‘কুলখানি’ নামে পরিচিত। সাধারণত মারা যাওয়ার ৪০তম দিনে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়। তবে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালেন তানোর পৌর এলাকার গোল্লাপাড়া গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধ মনির মন্ডল। তিনি মৃত্যুর আগেই আত্নীয়স্বজনদের আমন্ত্রণ জানিয়ে খাবার খাওয়ানোর পর সবার কাছে মাফ চেয়ে নেয়।
মনির মন্ডল তার কুলখানি অনুষ্ঠানে গ্রামের মসজিদের ইমামকে দিয়ে তার বাড়িতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন। সোমবার দুপুরে এমন একটি আয়োজনে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মনির মন্ডলের বয়স প্রায় ৭৫ বছর বয়সে বিছানাগত হয়ে পড়ে আছেন। তবে কথা বলতে পারেন।
মনির মন্ডলের চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলের সংসারে নাতি-নাতনিসহ বড় একটি পরিবার। পূত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করছেন। মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।
মনির মন্ডলের ছেলে আকতার মন্ডল বলেন, নিজের কুলখানি অনুষ্ঠানের সব ব্যয়ভার নিজেই বহন করেছেন আমার বাবা। তবে এমন অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা তার আগে ছিল না। ভালো ভাবে সবাইকে খাওয়ানো হয়েছে। কোন সমস্যা হয়নি। মেয়ের জামাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার শ্বশুরের ইচ্ছে অনুয়ায়ী ডেটোরেটর থেকে চেয়ার টেবিল ভাড়া করে প্যান্ডেল তৈরি করে বাড়ির আঙ্গিনায় আত্নীয় স্বজনদের খাওয়ার আয়োজন করা হয়।
মৃত্যুর আগেই নিজের কুলখানি অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে মনির মন্ডল বলেন, আমি শুনেছি মৃত্যুর পর ৪০তম দিনে যে আয়োজন করা হয় সেটা সঠিক না। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এই আয়োজন করেছি। আত্নীয় স্বজনদের কাছে মাফ চেয়ে নিয়েছি। জানিনা কখন না জানি আমার মৃত্যু হয়। তাই দাওয়াত করে বাড়িতে নিজের খুলখানির খাওয়ার আয়োজন করেছি। আল্লাহ যেন আমার মনের ইচ্ছে পূর্ণ করে।
গোল্লাপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, পরিবারের কেউ মৃত্যুবরণ করলে পরে তার বাড়িতে দোয়া ও মিলাদ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু মনির মন্ডল মৃত্যুর আগেই নিজের আত্মীয়-স্বজনদের আমন্ত্রণ দিয়ে নিজের কুলখানি অনুষ্ঠান করেন।