দুই ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্বে মারপিট, ছাত্রদলের দুই নেতাসহ ৭ জন আহত

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ইন্টারনেট ব্যাবসা নিয়ে দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে হামলার ঘটনায় উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইমদাদুল হক বিশাল (৩০) ও রায়কালী ইউনিয়ন ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ (২৭) সহ ৭ জন গুরুত্বর আহত হয়েছে।
ঘটনাটি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের চিয়ারীগ্রাম পাকুরডারিয়া গ্রামে ঘটেছে। অন্য আহতরা হলেন, তিলকপুরের নগরকুসুম্বি গ্রামের শাকিল আহম্মেদ (৩০), চিয়ারীগ্রাম পাকুরডারিয়া গ্রামের রোজিনা (৪৮), তিলকপুরের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন (৩৫), মোহাম্মদপুকুর গ্রামের শাহীন (৩০) এবং তিলকপুর বাজারের রাকিব (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস থেকে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের তিলকপুর নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের কাছ থেকে চিয়ারীগ্রাম পাকুরডারিয়ার সাদ্দাম হোসেন চুক্তিতে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। গত কয়েকদিন আগে অভ্যন্তরিন ব্যবসায়ীক লেনদেন নিয়ে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ চলছিল।
এরই জের ধরে মঙ্গলবার পাকুরডারিয়া মোড়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাটি হয়। পরে চন্দনদিঘী বাজারের একটি দোকানে বসে বিষয়টি মীমাংশার জন্য শালিশ করা হলে সেখানে সমাধান হয়নি। পরে পাকুরডারিয়া তিনমাথা মোড়ে এসে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ৭ জন গুরুত্বর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
আহত তিলকপুর ইউনিয়ন ছাত্র দলের সভাপতি ইমদাদুল হক বিশাল ইন্টারনেট ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের ছোট ভাই। অপরদিকে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা রায়কালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এগিয়ে আসলে সেও গুরুতর আহত হয়।
ইন্টারনেট ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের চাচাতো ভাই সাব্বির হোসেন বলেন, সাদ্দাম আগে থেকেই তিলকপুর নেটওয়ার্কের ব্যান্ডইউথ নিয়ে ব্যবসা করছিল। অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে ঝামেলা হওয়াই সে আমাদের না জানিয়ে অন্য কোম্পানির সাথে ব্যবসা করায় আমরা এর প্রতিবাদ করেছি। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়।
মঙ্গলবার বিকালে আমরা জাফরপুর থেকে চন্দনদিঘী বাজারে ইন্টারনেট তার টানছিলাম। সে আমাদের ৫’শ মিটার তার কেটে নিয়ে যায়। আমরা এর প্রতিবাদ করলে সাদ্দাম বেলালকে জুতা তুলে মারতে আসে। পরে তারা আমাদের উপর হামলা করে।
রায়কালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আহত রাজু আহম্মেদ বলেন, ঘটনার সময় আমি রাস্তার পাশে শ্যালো মেশিন মেরামত করছিলাম। এসময় বেলালের লোকজন ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলে ১৫-২০ জন এসে তিন মাথা মোড়ে আবু হোসেনের দোকানে ক্যারাম খেলা অবস্থায় মুমিনুলকে ধরে এনে রাস্তায় ফেলে মারধর করতে থাকে। আমরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে আমাদেরও মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। পরে আবু হোসেনের দোকানের ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে তারা।
ঘটনার পর থেকে সাদ্দাম হোসেনের ফোনে একাধিকবার কল এবং তার বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তানভীর নেওয়াজ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই আমরা হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়েছিলাম। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় নেওয়ার আহব্বান করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, রাতে সাতজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসে। তাদের হাত-পা ও মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। এদের মধ্যে তিনজনকে ভর্তি এবং বাঁকিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, দুই ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর মধ্যে ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ থানায় দেয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ | সময়: ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ