সর্বশেষ সংবাদ :

প্রচারণার শেষ দিনে মুখর রাজশাহী

স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিনে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসন ছিলো উৎসবমুখর ও সরব। সকাল থেকেই নগর ও উপজেলার হাটবাজার, মোড়, পাড়া-মহল্লা ও গ্রামাঞ্চলে প্রার্থীদের গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং জনসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতাকর্মীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শেষ মুহূর্তের সমর্থন আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন সব দলের প্রার্থীরা।
রাজশাহী-১ থেকে রাজশাহী-৬ প্রতিটি আসনেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। কেউ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, কেউ রিকশা বা পায়ে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রচারণায় প্রার্থীরা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। অনেক জায়গায় সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রার্থীরা ভোটারদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
এদিন রাজশাহী মহানগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডে গনসংযোগ ও সাহেবাজার এলাকায় গণমিছিল করেছেন বিএনপি মনোননীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু। গনসংযোগকালে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, যুব উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নগরীতে গণমিছিলের আয়োজন করেন। গণসংযোগকালে তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান ভোটে আল্লাহর রহমতে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এদেশে ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে। নায্যতার ভিত্তিতে সবাই সবার অধিকার পাবে। শিক্ষানগরী রাজশাহী নতুন বিজনেস হাব তৈরির মধ্য দিয়ে হবে বাণিজ্যের নগরী, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান, শান্তির নগরে থাকেবে না কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাফিয়া। এই নগরী হবে শান্তির জনপদ। সকলে মিলে গড়ে তুলবো আমাদের শান্তির নগরী। এই নগরীর মানুষ আর ভোট দিতে ভুল করবেন না। আপনারা সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করবেন। কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পাবেন না।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. শফিকুল হক মিলন নওহাটা ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিশাল জনসভা করেছেন। স্মরণকালের বড় জনসভা ছিল এটি। আশেপাশের ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠের কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সমাবেশে এ্যাড. শফিকুল হক মিলন ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট চান।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ মোহনপুরে তিনিও বিশাল জনসভা করেছেন। জনসভা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসভাস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। জনসভায় বক্তব্যকালে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, পবা-মোহনপুরের উন্নয়নে দাঁড়িপাল্লার কোন বিকল্প নেই।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে প্রচারণার শেষ দিনে মাঠে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল হক এবং বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ। প্রচারণার শেষ সময়ে শতশত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন দুই প্রার্থী। ভোট প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চারঘাট-বাঘায় প্রত্যন্ত এলাকা।
এছাড়ও অন্য আসনগুলোতেও প্রচারণার শেষ দিনে নগরীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে প্রচারণাকে ঘিরে বাড়তি জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি পোস্টার ও প্রতীক প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। গ্রামাঞ্চলে চায়ের দোকান, বাজার ও মসজিদের সামনে দলীয় কর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রচারণার শেষ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট, টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেলেও শেষ মুহূর্তে কার পাল্লা ভারী হবে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। প্রচারণা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর ছয়টি আসনেই ভোটের উত্তাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ভোটের দিন কারা বিজয়ের হাসি হাসবেন সেই অপেক্ষায় এখন পুরো রাজশাহী।


প্রকাশিত: February 10, 2026 | সময়: 5:19 am | সুমন শেখ