, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: ‘আর কতটুকু রক্ত ঝরালে হৃদয় হবে সিক্ত’ ‘হে মানুষ আর কত পরগাছা শরীরে নিলে আমি হব রিক্ত’ -এটি একটি আমগাছের কান্না। গাছটি যেন বারবার বলতে চাচ্ছে তাকে বাঁচাতে। পরগাছা ধ্যারে এমনভাবে গাছটিকে ঘিরেছে যে ভালভাবে না দেখলে বোঝায় যাবে না এটি একটি আমগাছ।
রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর গেটেই ভারাক্লান্ত হৃদয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই আমগাছটি। কত এমপি-মন্ত্রী বড় বড় ভিআইপি নেতা, কর্মকর্তা প্রতিদিনই আসা-যাওয়া করছেন এই পথ দিয়ে। সবায় যেন এড়িয়ে যাচ্ছেন এই জীর্ণ-শীর্ণ আমগাছটিকে। আমিওতো ওইপথ দিয়েই আসা-যাওয়া করি কিন্তু একবারও মনে হয়নি কেন গাছটির যত্নের প্রয়োজন। গাছটিকে বাঁচাতে হবে।
জামিরা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইয়াছিন ডায়াবেটিকস’র কারণে হাঁটাহাঁটির সুবাদে প্রতিদিনই সেখানে যান এবং গাছটির অবস্থা দেখে ভাঙ্গা হৃদয়ে ফিরে আসেন। বাইরের কোন ব্যক্তির পক্ষে নাকি ওই গাছের আগাছা পরিস্কার করা যাবে না। তিনি প্রতিবেদককে জানান, ‘বিমানবন্দর গেটের পাহারাদারদের বললে, তারা বলেন তাদের কিছু করার নেই। আবার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে নাকি তারা বলেন, ঢাকার (কর্তৃপক্ষে) অনুমোদন নিয়ে বাজেট পাশ করে গাছের ধ্যারে কাটতে হবে’। তিনি আরো বলেন, ‘ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বিমানবন্দরের প্রায় সবকটি আমের গাছে অযত্নে জন্মেছে পরগাছা (ধ্যারে)। কোন বিদেশি বিশেষ করে এই গাছটি দেখলে আমগাছের ধারনায় পাল্টে যাবে। অতিসত্বর এসব গাছের যত্ন নিতে তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
আমাদের দেশে আমগাছে দু-তিন প্রকার পরগাছা উদ্ভিদ জন্মাতে দেখা যায়। স্খানীয়ভাবে পরগাছা উদ্ভিদ ধ্যারা নামে পরিচিত। ছোট গাছের চেয়ে বড় বা বয়স্ক আমগাছে পরগাছার আক্রমণ বেশি হয়। পরগাছা উদ্ভিদের বীজ আমগাছের ডালে অঙ্কুরিত হয়ে বাড়তে থাকে। এসব পরগাছা ডাল থেকে প্রয়োজনীয় পানি, খাদ্যরস, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি শোষণ করে বেঁচে থাকে। পরগাছার শিকড় থাকে না, তারা শিকড়ের মতো এক প্রকার হস্টোরিয়া তৈরি করে। হস্টোরিয়া গাছের ডালে প্রবেশ করে ডাল থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। আক্রান্ত ডালের প্রায় সব খাবার পরগাছা খেয়ে ফেলে। ফলে আক্রান্ত ডাল দুর্বল হয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে আম ডালের অস্তিত্ব থাকে না বরং পরগাছা প্রভাব বিস্তার করে বাড়তে থাকে। লরানথাসজাতীয় পরগাছার পাতা দেখতে কিছুটা আমপাতার মতোই। তাই ভালোভাবে লক্ষ না করলে দূর থেকে পরগাছার উপস্খিতি বোঝা যায় না।