, , ।
সৌরভ সোহবার, সিংড়া: রাজশাহীর বিভিন্ন নদী, বিল ও খালে বাড়ছে অবৈধ সৌঁতিজালের ব্যবহার। বাঁশের খুঁটি ও ঘন ফাঁসের জাল দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহের পথে আড়াআড়ি বাঁধ তৈরি করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি। এতে হুমকিতে পড়েছে জেলার দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য।
বর্ষা ও প্রজনন মৌসুমে এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি ডিমওয়ালা মা মাছ ও ছোট পোনা ব্যাপকভাবে ধরা পড়ছে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে নদী ও খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জলজ পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি নাটোরের সিংড়ায় আত্রাই নদী ও চলনবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ সৌঁতিজালের অবকাঠামো ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কালিনগর ও বিলদহর ভাটোপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাতের নেতৃত্বে অভিযানে মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। প্রশাসন জানিয়েছে, মৎস্যসম্পদ ও চলনবিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ সৌঁতিজাল ও ক্ষতিকর জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সৌঁতিজালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে রাজশাহীর নদী-বিল থেকে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি ক্রমেই হারিয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে জেলেদের জীবন-জীবিকা, মাছের উৎপাদন এবং সামগ্রিক জলজ পরিবেশে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন করাও জরুরি।
আব্দুল করিম নামের স্থানীয় এক জেলে বলেন, “আগে নদী-বিলে জাল ফেললে ভালো পরিমাণ দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন সৌঁতিজাল বসিয়ে মাছের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা সাধারণ জেলেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।” সাইফুল আলী নামের স্থানীয় বাসিন্দা এই বিষয়ে বলেন “সৌঁতিজালে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট পোনাও উঠে আসে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর নদী-বিলে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি দরকার।”