, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ ওসমান গণির বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক যথাযথ বিচারের দাবি করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে এ দাবিতে অভিভাবকেরা ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।
স্মারকলিপি সুত্রে জানা যায়, ইসলামপুর-গুনাইহাটি ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ওসমান গণি উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় ২০১৫ সালে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। এরপর তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী আচরণ, দুর্নীতি, নারী শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন আচরণ ও প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভুক্তভোগী কয়েকজন নানা সময়ে দেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন। তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ পদ ছাড়েন। পরে ১ অক্টোবর মাদ্রাসার ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এবং অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠান। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অজান্তে রবিউল করিম সরদার নামে একজন সভাপতি মনোনীত হয়ে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পদত্যাগী অধ্যক্ষের নামসহ বেতন বিল তৈরির নির্দেশ দেন। অন্যথায় তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে স্বাক্ষর না করার হুমকি দেন। ছাত্র অভিভাবকেরা এ ধরণের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের পুনর্বহাল চেষ্টা বন্ধ করাসহ তার অনিয়ম-দুর্নীতির উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রবিউল করিম সরদার বলেন, আমি বেতন বিলে মাওলানা ওসমান গণির নাম তুলতে বলেছি। তবে না তুলতে বিলে সই না করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আর তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অভিভাবকের স্বাক্ষরসহ একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।