সর্বশেষ সংবাদ :

সমাজকে এগিয়ে নেয়ার শিক্ষাও দেয় বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসির চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুরে ধরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্কটা ছিল অটুট সেই জায়গায় অতি অল্প সময়ে সমস্ত কিছু পেছনে ফেলে এ্যকাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছি। যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অটুট সম্পর্ক ছিল না, সেই জায়গায় এখনও সমস্যা রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট প্রদান করে না। জীবনে চলার জন্য, সমাজের জন্য, সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যা কিছু প্রয়োজন; নৈতিক শিক্ষা থেকে শুরু করে পরস্পরের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ থেকে সমাজকে এগিয়ে নেয়ার প্রাথমিক শিক্ষাটা পায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এবং রুয়েট সেই পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে। রুয়েট ক্যাম্পাস অনেক শান্ত ও স্নিগ্ধ। রুয়েটের প্রত্যেকটি শিক্ষক-শিক্ষার্থী গবেষণা করতে আগ্রহী এবং এর জন্য তারা সুযোগ-সুবিধা চায়।
মঙ্গলবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় দিবস (প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, চিত্রঙ্কন প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। গবেষণার জন্য অর্থের অভাব নাই উল্লেখ করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কোননা কোন ভাবে গবেষণার জন্য অর্থের বরাদ্দ রয়েছে। তবে এগুলোর সমন্বয় নাই। নাই বলেই আমাদের কাছে মনে হয় গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নাই। এজন্য ইউজিসি ‘রিসার্চ রিপোজিটরি ডেভেলপমেন্ট’ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে কোথায় গবেষণার প্রয়োজন এবং কোন বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। একই সাথে রিসার্চ ফান্ডের উৎসও খুঁজে বের করা হবে। এতে করে বেশি উপকৃত হবে সাইন্স এ্যন্ড টেকনোলজি বেজড ইউনিভার্সিটিগুলো। গবেষণা ও প্রকৌশল শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউজিসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, মেধাবীরাই প্রকৌশলী হন। সবচাইতে মেধাবীরা যখন প্রকৌশলী বা ডাক্তার হন তখন তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে তারা হবেন দুনীতিমুক্ত নৈতিক মানুষ। প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি একজন প্রকৌশলী অর্জন করবেন সমাজের সাথে বন্ধন তৈরির শিক্ষা এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে অবিচল থাকার শিক্ষা।
গবেষণা শুধু প্রকাশনা, সাইটেশন কিংবা ব্যক্তিগত গবেষণা-প্রোফাইল সমৃদ্ধ করার জন্য নয় উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধান। দেশের ছোট-বড় সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
রুয়েটে গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি ওঠার বিষয়টির প্রশংসা করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর দাবি বেশি শোনা যায়। কিন্তু রুয়েটে গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে; যা অত্যন্ত ইতিবাচক। গবেষণাগার স্থাপন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে ইউজিসি সহযোগিতা করবে।
রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, মেকানিক্যাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, সিভিল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, এ্যপ্লাইড সায়েন্স এ্যন্ড হিউম্যানিটিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের জিলানী, ইলেকট্রিক্যাল এ্যন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ শিক্ষার্থীবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকালে রুয়েট প্রাঙ্গনে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। এছাড়াও রুয়েট প্রাঙ্গনে অবস্থিত শহীদ শিক্ষার্থীদের কবর জিয়ারত এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাফেটারিয়ায় গবেষণা পোস্টার ও স্টার্টআপ মডিউল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দুপুরে যোহরের নামাজ শেষে রুয়েটের অগ্রযাত্রা সহ দেশ এবং জাতির কল্যাণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


প্রকাশিত: September 2, 2026 | সময়: 4:40 am | সুমন শেখ