, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া প্যানেল চেয়ারম্যান-১ অসুস্থ হয়ে ছুটিতে যান। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পাওয়ার কথা প্যানেল চেয়ারম্যান-২-এর। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। হাইকোর্ট এই ওই অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর চার মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন।
এ ঘটনা রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)। প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জয়নাল আবেদীন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির। আর প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ রুপালী পারভীন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। রুপালী আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন, এখন বিএনপির সমর্থক। জয়নালের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে।
হড়গ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের নেতা আবুল কালাম আজাদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ওই নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী শফিকুল হক মিলনের কাছে পরাজিত হন। চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুনজুর রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। অসুস্থতার কারণে গত ১৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পাবেন, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
ইউপি ও উপজেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, মুনজুর রহমান জীবিত থাকতেই গত ২৩ জুলাই ছয়জন সাধারণ সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য ইউএনওর কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। আবেদনে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুনজুর রহমান ভারতে চিকিৎসার জন্য ২৯ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ছুটিতে ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ রুপালী পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এর অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জয়নাল আবেদীনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা অনাস্থা প্রকাশ করেন। তবে ওই অনাস্থা প্রস্তাবে জয়নাল আবেদীন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে কেন অনাস্থা, সে বিষয়ে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর উপজেলা প্রশাসন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে। তিনি গত ২৮ জুলাই জয়নাল আবেদীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্ধারণের বিষয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউপি কার্যালয়ে সভাও ডাকা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সভাটি বাতিল করা হয়।
জয়নাল আবেদীন পেশায় আইনজীবী। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই কারও বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ নেই। অনাস্থার ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার মতো যৌক্তিক কারণ থাকতে হয়। তিনি দায়িত্বই গ্রহণ করেননি, তাই তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের অনিয়মের অভিযোগও থাকার কথা নয়।
জয়নালের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বাদ দিয়ে রুপালী পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেছেন। আদালত অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর চার মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। এ কারণে ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের সভা বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে রুপালী পারভীন বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে তিনি প্রস্তুত আছেন। জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে কেন অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
হড়গ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার আগে সদস্যদের ভোটে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়েছিল। প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মারা যাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জয়নাল আবেদীনের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্ধারণ নিয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সভা হওয়ার কথা ছিল। সোমবার তিনি জানতে পারেন, অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর হাইকোর্ট চার মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। এরপর ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে সভাটি বাতিল করা হয়েছে।