, , ।
নুরুজ্জামান, বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার প্রধান অর্থকারি ফসল আম । তবে সেই পরিচয়ের সঙ্গে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ। উপজেলার একদল শিক্ষিত তরুণ চাকুরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদের হাত ধরে ড্রাগন, মাল্টা, স্ট্রবেরি ও রঙিন ক্যাপসিকাম মরিচ চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। উপজেলা কৃষি বিভাগের কারিগরি পরামর্শ ও নিয়মিত তদারকিতে এসব উদ্যোগ দিন-দিন সফলতার মুখ দেখছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ড্রাগনের বাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, বরং আধুনিক কৃষির সফলতার প্রতীক। সারিবদ্ধ কংক্রিটের খুঁটির ওপর ছড়িয়ে থাকা সবুজ লতা আর তাতে ঝুলে থাকা উজ্জ্বল লাল ড্রাগন ফল সহজেই নজর কেড়ে নেয়। লাভজনক এই চাষ দেখে অনেক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
বাউসা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রোমন তিন বছর আগে চার বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও নিজের পরিশ্রমে তিনি এখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন। রোমন বলেন, গত তিন বছর ধরে চার বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করছি। উপজেলা কৃষি বিভাগ আমাকে এ চাষে উৎসাহিত করেছে এবং নিয়মিত নানা পরামর্শ দিচ্ছে। বর্তমানে আমি ড্রাগন চাষে সফলতার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। আমাকে দেখে এ অঞ্চলের অনেকেই এখন ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি জানান, বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে ড্রাগন চাষের পরিকল্পনা করছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ড্রাগন ফল ভিটামিন সি, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি সুপারফুড। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর উচ্চ ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে এবং অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক ও চুল ভালো রাখতে কাজ করে।
তিনি আরো বলেন, ড্রাগন একটি বিদেশি ফল। একসময় আমাদের অঞ্চলে এর চাষ ছিল না। বর্তমানে উপজেলার অনেক শিক্ষিত তরুণ ড্রাগনের পাশাপাশি পলিনেট হাউস তৈরি করে মাল্টা, স্ট্রবেরি , গ্রীষ কালিন টমেটো ও রঙিন ক্যাপসিকাম মরিচ চাষ করছেন। এসব উচ্চমূল্যের ফসল কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। উপজেলা কৃষি বিভাগ নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি, পরিচর্যা, রোগবালাই দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, আধুনিক ও উচ্চমূল্যের ফল চাষের সম্প্রসারণ ঘটলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কৃষির বহুমুখীকরণও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ফলের দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষিত তরুণদের এই উদ্যোগ বাঘার কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্যোক্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে বাঘা উপজেলা বিদেশি ফল উৎপাদনের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হবে।