, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামের গোপালপুর গ্রামে একটি কুলখানি অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেতে এসে ভ্যান চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধকে আটক করেছে স্থানীয়রা। শুক্রবার বিকেলে খাওয়ার আগে একটি ভ্যানকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অনুসরণ শুরু করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
পরে নজরদারির একপর্যায়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। রাতে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ভাইরাল হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই দু’জন বয়স্ক মানুষকে গাছে বেঁধে রাখার ভিডিওটির শত শত শেয়ার হলে সাধারণ লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ও কুলখানির আয়োজকরা জানান, আবুল কাশেমের কুলখানীতে তাদের একজন ভ্যানচালকের সঙ্গে খেতে বসেন। আর একটু দূরে বসা অপর মুরুব্বী হঠাৎ খাওয়া শেষ না করেই উঠে সন্তর্পনে ওই ভ্যানের কাছে যান। নিজ হাতের চাবীর গোছা থেকে একটা চাবী দিয়ে ভ্যানের তালা খুলে চালিয়ে রওনা হতেই আগে থেকেই নজরে রাখা কয়েকজন যুবক তাকে ধরে ফেলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা ওই দুইজনকে গাছের সাথে বাঁধেন। তবে তাদেরকে কোনরকম মারপিট বা শারীরিক নির্যাতন করতে দেননি কুলখানির আয়োজকরা।
বড়াইগ্রাম পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোবারক হোসেন টিপু জানান, তিনি দাওয়াতে এসে খেতে বসার আগেই বিষয়টি জানতে পেরে ছুটে গিয়ে দুই মুরুব্বীকে বয়স আর সম্মান বিবেচনায় গাছ থেকে বাঁধন খোলেন। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, একজনের দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। অপরজনের মেয়ে চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের বয়স, পারিবারিক, মানসিক ও সামাজিক সম্মান বিবেচনায় নিয়ে চুরির পথ থেকে ফেরার অঙ্গীকার নিয়ে মুক্ত করেন।
পৌর যুবদলের সভাপতি আব্দুল খালেক সরকার জানান, পাশের সলঙ্গা এলাকার সাইদুর রহমান ভ্যানটি ঋণ করে কিনেছেন। ভ্যান চালিয়েই তার সংসার চলে। ভ্যানটি চুরি হয়ে গেলে ভ্যান চালক তার পরিবার নিয়ে যে সমস্যায় পড়তেন তা সহজেই অনুমেয়। তারপরও মারপিট না করে বরং বোঝানোর মাধ্যমে অপরাধ থেকে মানুষকে ফেরানোর চিন্তা থেকেই দুইজনকে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কুলখানির আয়োজক ও মরহুম আবুল কাশেমের বড় ছেলে ইসলাম উদ্দিন বলেন, তারা আমাদের কোন আত্নীয়-স্বজন নয়, কোনভাবে খবর পেয়ে হয়তো এসেছেন। ভ্যান চুরি করে নেয়ার সময় লোকজন তাদেরকে ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে। পরে আমরা জানতে পেরে তাদেরকে ছাড়িয়ে এনে খাওয়া-দাওয়া করিয়েছি। এ সময় তাদের কাছে বেশ কিছু চাবি পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে আর এসব করবে না মর্মে স্থানীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে মুচলেকা দিলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।