রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বলতেই সবার আগে কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম মাথায় আসে। কিন্তু ফরাসিদের এই অপরাজিত যাত্রার নেপথ্যে আরেকজন খেলোয়াড় মাঠজুড়ে রীতিমতো রাজত্ব করছেন, তিনি মাইকেল ওলিসে।
শুধু বল পায়ে জাদুই দেখাচ্ছেন না, এবারের বিশ্বকাপে ফরাসি খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৌড়াচ্ছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার। বাংলাদেশ সময় গতকাল দিবাগত রাত ৩টায় শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে ফ্রান্স। এই ম্যাচেও মাইকেল ওলিসের স্ট্যামিনা আর প্লে-মেকিং হতে পারে ফরাসিদের তুরুপের তাস।
দিদিয়ের দেশমের দলে ওলিসে কতটা অপরিহার্য, তা তার ওয়ার্করেট দেখলেই স্পষ্ট হয়। পুরো টুর্নামেন্টে ফরাসি খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরিয়েছেন তিনিই। এখন পর্যন্ত তিনি ৪০.৯ কিলোমিটার কভার করেছেন। গত ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে তিনি একাই ১০.৭ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আদ্রিয়েঁ রাবিও বা অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির চেয়েও বেশি; তাও আবার শেষদিকে তাকে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়ার পরও!
তবে ওলিসের ভূমিকা শুধু দৌড়ানোর মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, প্লে-মেকিংয়েও তিনি অনন্য। ৫টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এবারের বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত শীর্ষ ‘অ্যাসিস্ট দাতা’ তিনি। সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়েও বড় ভূমিকা ছিল তার। দুটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি তার একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারও ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন, ‘ওলিস ঠিক যেমনটা চেয়েছে, মাঠে সেভাবেই খেলেছে।’
রক্ষণাত্মক কাজেও দারুণ অবদান রাখছেন ওলিস। সোফাস্কোরের তথ্যমতে, প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫.৫ বার বল রিকভার করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত শূন্যে ভাসা প্রতিটি বলের লড়াইয়ে (অ্যারিয়াল ডুয়েল) তিনি জয়ী হয়েছেন। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের আশেপাশে বল কেড়ে নেওয়া এবং বল ছাড়া ফরাসিদের প্রেসিংয়েও দারুণ কার্যকরী তিনি। এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি তিনিও দলের সেই নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন, যারা এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রতিটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন।
দলের ভেতরেও ওলিস বেশ জনপ্রিয়। সতীর্থ ডেজিরে দুয়ে তাকে নিয়ে বলেন, ‘সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট তার, মাঠে সে আমাদের অনেক কিছু দেয়। ড্রেসিংরুমেও সে খুব মজার একজন মানুষ। আশা করি সে এই ফর্ম ধরে রাখবে এবং দলকে সাহায্য করে যাবে।’ কোচিং স্টাফদের নজর কেড়েছে ওলিসের ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তাও। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিপক্ষের লাইন ব্রেক করে সতীর্থদের কাছে পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ফরাসিদের মধ্যে ওলিসই সবচেয়ে এগিয়ে। সদ্য বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার গত ইউরোপিয়ান মৌসুমের ফর্মটাই যেন বিশ্বকাপেও টেনে এনেছেন। টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখা ওলিসের দিকে আজ রাতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেও আলাদা নজর থাকবে সবার।