সৌদিকে রুখে ইতিহাস কেইপ ভার্ডের

স্পোর্টস ডেস্ক: গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচও না জিতে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ, ঠিক এই অবিশ্বাস্য সমীকরণটিই মিলিয়ে দেখালো আফ্রিকার দেশ কেইপ ভার্ড। নিজেদের ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে ড্র করেও, অন্য মাঠের ভাগ্যের ছোঁয়ায় উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কেটে ফেললো তারা। ম্যাচের আগে সমীকরণটা ছিল বেশ জটিল। তবে কেইপ ভার্ডের পথটা মসৃণ করে দেয় স্পেন। অন্য ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে স্পেন জয় তুলে নেওয়ায় ভাগ্য খুলে যায় কেইপ ভার্ডের। হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করেছে কেইপ ভার্ড। টানা তিন ড্রয়ে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে দলটি। অন্য ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারানো স্পেন, তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে উঠেছে নকআউটে। এই গ্রুপ থেকে ছিটকে গেছে সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। ২ করে পয়েন্ট দুই দলের। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই নকআউটে উঠল মাত্র পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার জনসংখ্যার দেশ কেইপ ভার্ড। শেষ বত্রিশে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবে তারা। স্পেন ও উরুগুয়েকে ড্রয়ে রুখে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামা কেইপ ভার্ড ম্যাচ জুড়ে ছিল বিবর্ণ। উরুগুয়েকে ড্রয়ে আটকে দেওয়ার পর, স্পেনের কাছে ৪-০ গোলে হেরে আসা সৌদি আরবও পারেনি নিজেদের মেলে ধরতে। প্রথম ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ পর্যন্ত বল দখলে দুই দলই সমানে সমান। কেউই উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণও পারেনি শাণাতে। এরপর কেইপ ভার্ডের খেলা গতি বাড়ে, কিন্তু সৌদি আরবের গোলকিপারকে পরীক্ষা নেওয়ার মতো কিছু করতে পারছিল না তারাও। প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ, যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে করে সৌদি আরব। তবে, সুলতান মান্দাসের বাড়ানো বলে, ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে মোহামেদ কান্নোর দুর্বল হেড সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন ভাজিনিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মন্তেইরোর শট দূর্ভাবনার কারণ হতে পারেনি আল-ওয়াসির। ৭৪তম মিনিটের দারুণ সেভে দলের ত্রাতা ওয়াসি। ওয়ান অন ওয়ান পরিস্থিতিতে লারোস দুয়ার্তের শট কোনমতে পা দিয়ে আটকে দেন তিনি। শেষ দিকে নুনো দা কস্তা বাইরে মেরে ভালো একটি সুযোগ নষ্ট করলে, গোল পাওয়া হয়নি কেইপ ভার্ডের। কিন্তু শেষের বাঁশি বাজতেই, সব সমীকরণ মিলে যাওয়ায় বাঁধনহারা উৎসব তারাই করল, নেচে-গেয়ে, উল্লাস আর আনন্দ অশ্রুর মিশেলে।


প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬ | সময়: ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ