রেক্সিমকোর কীটনাশক ব্যবহারে পেঁয়াজের ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

জুবায়ের তুহিন রাজশাহী :

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শানপুকুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী ও রেক্সিমকো ইনসেকটিসাইডস লিমিটেডের অনুমোদিত ডিলার মোঃ খলিলুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং নিজের ব্যবসায়িক ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে “মেসার্স তুহিন এন্ড তানভীর এন্টারপ্রাইজ”-এর মাধ্যমে রেক্সিমকো ইনসেকটিসাইডস লিমিটেডের কৃষি উপকরণ বিক্রি করে আসছেন। গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি কোম্পানি থেকে ম্যাজিক ১০ ইসি (সাইপারমেথ্রিন) ১০০ মিলির ২৪ বোতল এবং কাবোর্জিম ৫০ ডব্লিউপি (১০০ গ্রাম) ২৪ প্যাকেট ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তার নিয়মিত ১২ জন কৃষক ওই কাবোর্জিম ৫০ ডব্লিউপি তাদের মোট সাত বিঘা পেঁয়াজ ক্ষেতে ব্যবহার করেন। স্প্রে করার কয়েক দিনের মধ্যেই পেঁয়াজ গাছের শিকড় পচে যেতে শুরু করে এবং ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।

 

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের অভিযোগের পর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ব্যবহৃত ছত্রাকনাশকের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেন। এরপর রেক্সিমকো ইনসেকটিসাইডস লিমিটেডের নাটোর জোনাল অফিসের এরিয়া ম্যানেজার মোঃ হাফিজুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি প্রতি বিঘায় ৬০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অঙ্গীকার করে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে ওই অর্থ ব্যবসায়ী (খলিলুর রহমানের) মাধ্যমে কৃষকদের পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

তবে পরবর্তীতে কোম্পানির ওই কর্মকর্তা তার অবস্থান পরিবর্তন করে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে খলিলুর রহমানের নামে একটি আইনজীবীর নোটিশ পাঠান। নোটিশে দাবি করা হয়, তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে খলিলুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্বেচ্ছায়, সুস্থ মস্তিষ্কে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপস্থিতিতেই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন। এ ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষ সাক্ষীও রয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তেমনি একজন অনুমোদিত ডিলার হিসেবে তার ব্যবসার সুনাম, আর্থিক অবস্থা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিকভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

 

এ সময় তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, কৃষি মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কোনো কৃষক বা ব্যবসায়ী যেন এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।


প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬ | সময়: ১০:৩৯ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine