শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: বিদেশে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে সাপাহারের আমচাষি সোহেল রানা বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি আম রপ্তানিতে প্রায় ৬৫০ টাকা বিমান ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত এই পরিবহন ব্যয়ের কারণে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে পাঠানোর জন্য আম কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তুলনামূলক কম খরচে আম রপ্তানি করতে পারায় তারা আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।
নওগাঁয় আমের বাজারজাতকরণ, বিদেশে রপ্তানি, পরিবহন সমস্যা, আম সংরক্ষণ ও বিপণন বিষয়ক সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
আমচাষিরা বলেন, নওগাঁর আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করা এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
বেশ কয়েকজন আমচাষি জানান, বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সঠিক উদ্যেগের অভাবে আম বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি বছর এমন সেমিনার হয়। আর তা খাতা-কলমেই থেকে যায়।
তারা আরো অভিযোগ করেন, যে আম রপ্তানী করে বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা যেতো তা অবহেলায় নষ্ট হয়। বিদেশে রপ্তানী তো দুরের কথা আম সংরক্ষণের কোন উদ্যোগও নিতে দেখা যায় না।
বিদেশে ফল সংরক্ষণের বড় বড় হিমাগার আছে। চাষিরা ইচ্ছে মতো তাদের ফল সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। কিন্তু এখানে সংরক্ষণের অভাবে কোটি কোটি টাকার আম বাড়িতে, বাগানে পচে যায়।
সভায় আমচাষি, ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় আম পরিবহনে বিদ্যমান সমস্যা, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি, বিদেশে রপ্তানি সম্প্রসারণ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় আনুমানিক ৩ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ৪ লাখ ২১ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মিলে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।