সর্বশেষ সংবাদ :

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুশ-ইনে ব্যর্থ হয়ে ২০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ

স্টাফ রিপোর্টার, শিবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ২০ জনকে দুই দফা পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। ৬ ঘন্টা চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে তাদের ফিরিয়ে নেয় ভারতের ঐ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
শুক্রবার গভীর রাতে চৌকা সীমান্তের ১৭৭/২ আর পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায় ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সুকদেবপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে বিজিবি সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আসতে পারেনি। পুশইন এর শিকার ২০ জনের মধ্যে ৫জন পুরুষ, ১১জন নারী ও ৪জন শিশু রয়েছে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশরোধে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় ওই ২০ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় ৬ ঘন্টা খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮ টার কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হলে উভয় বাহিনীর মধ্যে তর্ক যুদ্ধ হয়। এ সময় স্থানীয় জনসাধারন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে ভারতের বিএসএফ পক্ষ শূণ্য রেখায় থাকা ২০ জন কে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়। তবে বেলা পৌনে ১২ টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা আবারো ঐ ২০ জনকে বাংলাদেশ অভিমুখে আনার চেষ্টা করলে আবারো বিজিবি ও স্থানীয় জনসাধারনের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে উভয় দেশের কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৭৮/৩ এস পিলারের নিকটবর্তী সংলগ্ন সুখদেবপুর এলাকায় বিএসএফের মাধ্যমে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত নেয়ার মাধ্যমে উক্ত অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত করা হয়।
স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো: সাদ্দাম হোসেন জানান, পুশ-ইনের শিকার ২০ জনের মধ্যে একটি ছোট বাচ্চা প্রচন্ড অসুস্থ।বাচ্চাটিকে তার মা বার বার শূণ্য রেখায় শৌচকার্য করাতে দেখা গেছে।পওে তাদের কাছ থেকে জানা গেছে ঐ শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত এবং এক নারীও অসুস্থ ছিল। তারপরও তাদের খোলা আকাশের নিচে ৬ ঘন্টা বসিয়ে রাখা অমানবিক।
এদিকে বেলা ৪ টার দিকে এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি জানান, পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেলা ১২টার দিকে তাদের আবার ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। সীমান্তে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিত থাকায় এবং ২০ জনকে শূণ্য রেখায় আনার চেষ্টার কারনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কয়েকবার তৈরী হয়। তবে বর্তমানে সীমান্ত শান্ত রয়েছে। উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিজিবি সকল প্রকার পুশইন/অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে টহল তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারীসহ অধিক সতর্কতার সাথে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬ | সময়: ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর