, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্থায়ী হলো ২৭ জন কর্মচারীর চাকরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১২তম সিন্ডিকেট সভায় এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মাঝে বইছে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ।
বুধবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। সভায় সিন্ডিকেট সদস্যদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল দীর্ঘদিন ধরে মাস্টাররোলে কর্মরত ২৭ জন কর্মচারীকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে স্থায়ীভাবে নিয়োগের অনুমোদন প্রদান।
জানা যায়, এসব কর্মচারী কেউ ১৫ বছর, আবার কেউ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চাকরি স্থায়ী হওয়ায় তাদের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটলো। সভা শুরুর আগে সিন্ডিকেটের নবনিযুক্ত সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন উপাচার্য, যা অনুষ্ঠানে এক আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের মধ্যে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত আব্দুল মালেক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি প্রায় ২২-২৩ বছর ধরে রুয়েটে কাজ করছি। এতদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। আজ স্থায়ী হওয়ার খবর শুনে সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নেই। উপাচার্য স্যার আমাদের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।”
আরেক কর্মচারী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও স্থায়ী না হওয়ায় অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আজকের এই সিদ্ধান্ত আমাদের জীবনে নতুন আশা ও নিরাপত্তা এনে দিয়েছে।” একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এই চাকরিটাই সবকিছু। এতদিন ভয় ছিল, কখন না জানি কাজ হারাতে হয়। এখন অন্তত নিশ্চিন্তে পরিবার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারবো।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন মানবিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ কর্মচারীদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়াবে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে যারা দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। নিয়মের মধ্য থেকেই আমরা তাদের স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছি।” রুয়েটের এই সিদ্ধান্ত শুধু ২৭ জন কর্মচারীর জীবনে স্বস্তি এনে দেয়নি, বরং এটি একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মূল্য একদিন না একদিন স্বীকৃতি পায়।