, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৭.৩০ থেকে এবং শেষ হয়েছে বিকেলে ৪.৩০ মিনিটে। এ দিন সকাল থেকেই উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট শুরু হয়েছে। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ছিল নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। নারী ভোটারা অনেকেই ফজরের নামাজ শেষ করেই চলে আসছেন ভোট কেন্দ্রে।
তবে চোখে পড়ে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের শলুযা ডিগ্রী কলেজ ভোটকেন্দ্রে ছেলে ও ছেলের বউয়ের কোলে চেপে ভোট দিতে এসেছেন শতবর্ষী বৃদ্ধা শুনাভান বেগম।
ছেলে শাহাবুর রহমানের দাবি, তার মার বয়স ১১৭ বছর। তার মায়ের জন্ম ১৯১৭ সালের ১০ নভেম্বর। পায়ে চলার শক্তি হারিয়েছেন। তবে চোখে ও কানে এখনো ভালোই শুনেন। তবে ভোট দেওয়ার প্রতি তার খুব আগ্রহ ছিল, তাই কোলে চাপিয়ে ভোট দিতে নিয়ে এসেছেন তার ছেলে।
এসময় শুনাভান বেগম বলেন, জীবনের শেস সময়ে ভোট দিতে পেরে ভালোই লাগছে। আর কখনও ভোট দিতে পারবো না মনে হয়। তাই ভোট দিতে আসছি। শাহাবুর বলেন, ‘মাকে এনে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। মায়ের একটা ইচ্ছে পূরণ করতে পারলাম। শুনাভান বেগমের মত আরো কয়েকজন নারী ও পুরুষ ছিলেন বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে। তাদের মধ্যে সাবু নামের একজন বৃদ্ধের সঙ্গে কথা হয় মাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে। তিনি বলেন, অনেক বছর ভোট দিতে পারিনি। এবারের নির্বাচনে জীবনের শেষ সময় ভেবে ভোরেই নাতির হাত ধরে ভোট দিতে আসছি।
রীর অচল, বয়সের ভারে হাঁটতে পারেন না। সন্তানদের কোলেই যার চলাফেরা। তবুও গণতন্ত্রের টানে স্বেচ্ছায় সাতসকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছেন ১১৫ বছর বয়সী খাজামন বিবি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সন্তানদের কোলে চড়ে তাকে ভোটকেন্দ্রে আসতে দেখা যায়। স্বেচ্ছায় ভোট দিতে এসেছেন বলে জানান তিনি। খাজামন বিবির বাসা মোহনপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে। তিনি পাঁচ সন্তানের জননী।
ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে খাজামন বিবি বলেন, আমি হাঁটতে পারি না। তবুও স্বেচ্ছায় ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছি। আমার ছোট ছেলের কাঁধে ভর করেই এখানে এসেছি। আমি জীবিত থাকতে কেন আমার ভোট নষ্ট করবো? হয়তো এটাই আমার শেষ ভোট। খাজামন বিবির ছোট ছেলে মো. আসাদুল সরদার বলেন, মা রাত থেকেই ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। সকাল হতেই ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। ভ্যানগাড়ি ও কাঁধে ভর করেই তাকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। ভোট দেওয়ার জন্য এত আগ্রহী মানুষ আমার মাকে ছাড়া আর কাউকে দেখিনি।
কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, এমন বয়সী খাজামন বিবি ছাড়া অন্য কাউকে এই কেন্দ্রে এখনো দেখিনি। দেশের প্রতি তার টান দেখে খুব ভালো লাগছে। এই মহীয়সী নারী সকলের অনুকরণীয় বলে জানান তিনি।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর, চলাফেরায় ভরসা কেবল একটি ক্রাচ। তবুও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ৯৫ বছর বয়সী সারবানু বেগম হাজির হন রাজশাহীর হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে।
বৃহস্পতিবার সকালেই পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগে তার দৃঢ়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্র প্রাঙ্গণে পৌঁছালে উপস্থিত ভোটার ও দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে সহায়তা করেন। ধীর পায়ে, ক্রাচে ভর দিয়ে তিনি ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন এবং ব্যালট পেপারে সিল মেরে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।
ভোট প্রদান শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সারবানু বেগম বলেন, “ভোট দেওয়া আমার দায়িত্ব। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন এই দায়িত্ব পালন করতে চাই। ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।” তার এই উপস্থিতি কেন্দ্রজুড়ে এক অনুপ্রেরণার আবহ সৃষ্টি করে। অনেকেই বলেন, শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্য কোনো বাধা হতে পারে না—ইচ্ছাশক্তিই বড় শক্তি। তরুণ ভোটারদের জন্য সারবানু বেগম হয়ে উঠেছেন দায়িত্ববোধ ও নাগরিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এরই মধ্যে সারবানু বেগমের মতো প্রবীণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।