বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
আর মাত্র দু’দিন পর অনুষ্ঠিত হবে ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন বাংলাদেশকে রক্ষা করার নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশের জাতীয় পতাকা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের প্রতিহত করতে হবে। যারা এ দেশে মৌলবাদ হিসাবে পরিচিত, যারা স্বাধীনতা মানেনা , তারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিগত তিনবার নির্বাচন করে জামানত ফেরত পায়নি।
এবার তার সাথে দাড় করে দিয়েছি এক তরুন যুবদল নেতাকে। তিনি ইতোমধ্যে জান্নাতের টিকিট বিক্রী শুরু করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের সম্পর্কে জানে। সুতারাং এ গুলো করে লাভ হবেনা। সোমবার বিকেলে (৯ ফেব্রুয়ারী) রাজশাহী ৬-চারঘাট-বাঘার বিএনপি মনোনীয়ত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ তাঁর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাঘা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, চারঘাট-বাঘা কৃষি প্রধান এলাকা। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি তাহলে আমি সর্বপ্রথম এই অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবো। তিনি দুই উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের ফসলী জমি সহ ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হওয়া রক্ষা করতে বাঁধ নির্মান প্রকল্প এবং চরাঞ্চলের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি ব্রিজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে দুই উপজেলাকে মাদক মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমি তরুন যুবকদের জন্য দুই উপজেলায় দুটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরী করতে চাই।
তিনি জামায়াতে ইসলামীকে মৌলবাদ আখ্যা দিয়ে বলেন,এই দেশে ইসলামকে ধবংস করার জন্য জামায়াতে ইসলামীই যথেষ্ট। যারা স্বাধীনতা মানেনি, সার্বভৌমত্ব রক্ষা না করে পাকিস্থানীদের সাথে হাত মিলিয়ে ছিলো, এখন তারা ক্ষমতায় আসতে চায়।
ওরা মা-বোনদের ইজ্জত লুন্ঠন করা দল। ওরা নিজেদের ইসলামী দল দাবি করে মানুষের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার পাশা-পাশি ভোটারদের আইডি কার্ড নাম্বার চায়। বিকাশ নাম্বার চায়। কই আমাদের বিরুদ্ধে তো এ রকম আভিযোগ আসেনি ?
চাঁদ বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আমার দলে কোন চাঁদাবাজদের জায়গা থাকবে না। আমি আজকের সমাবেশে যে গনজোয়ার লক্ষ্য করছি তা থেকে এটায় প্রমানিত হয়, ধানের শীষের বিজয় হবে। এ সময় উপস্থিত কর্মীরা স্লোগানে মুখরিত করে তুলে পুরো মাঠ। ভোট দিবো কিসে-ধানের শীষে। তিনি বলেন, আমি একজন মজলুম মানুষ। বিগত সরকার আমলে ছয় বছর জেল খেটেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে আমাকে রাখা হয়েছে। আমি দলের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে আমার মা এবং স্ত্রীকে হারিয়েছি। তাই আপনারা দল-মত নির্বিশেষে আমাকে একটি করে ধানের শীষে ভোট দিবেন। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, যতদিন বেঁচে থাকবো আপনাদের খেদমত করে যাবো এবং মরার আগের দিন পর্যন্ত আমার নেতা মরহুম জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়েই বেঁচে থাকবো।
বাঘা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলামের সঞ্চানায় এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, নুরুজ্জামান খান মানিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আশরাফুদৌলা , চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল,যুক্তরাজ্য বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা, বাঘা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন , আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক , বাঘা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মুখলেছুর রহমান মুকুল, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক শামিম সরকার , বিএনপি নেতা আব্দুল লতিব, আফাজ উদ্দিন, যুবদল নেতা সালে আহাম্মেদ সালাম, শফিকুল ইসলাম শফি, আলামিন জামাদার প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌর সভার সকল সভাপতি সম্পাদক-সহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এই সমাবেশ শেষে একটি নির্বাচনী বিশাল প্রচার মিছিল বাঘার নারায়নপুর বাজার সহ উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে যথাস্থানে এসে মিলিত হয়।